Image description

দীর্ঘ তিন মাস বন্ধ থাকার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে পুনরায় জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং অপরিশোধিত তেলবাহী তিনটি বিশাল ট্যাংকার এই জলপথ পাড়ি দিয়ে পাকিস্তান ও চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা শুরু হওয়ার পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি প্রায় বন্ধ ছিল।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা লয়ডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স ও রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার বাহামাসের পতাকাবাহী এলএনজি ট্যাংকার ‘ফুওয়াইরিত’ হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিচ্ছে। কাতার থেকে এলএনজি নিয়ে রওনা হওয়া এই জাহাজটি মঙ্গলবার পাকিস্তানে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া কাতার এনার্জির মালিকানাধীন আরেকটি এলএনজি ট্যাংকার ‘আল রায়ান’ ২৭ জুন চীনে পণ্য খালাসের উদ্দেশ্যে জলপথটি অতিক্রম করেছে।

অপরদিকে, ইরাকের বসরা বন্দর থেকে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে ‘ঈগল ভেরোনা’ নামক একটি সুপার ট্যাংকার (ভিএলসিসি) গত শনিবার হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। ১২ জুন চীনের নিংবো বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে জাহাজটির। মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় ইরানের অনুমতি নিয়ে যে সাতটি জাহাজ পার হওয়ার কথা ছিল, ‘ঈগল ভেরোনা’ তার মধ্যে একটি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার পর থেকে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই পথটি কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেয় ইরান। এতে পারস্য উপসাগরে কয়েকশ জাহাজ এবং প্রায় ২০ হাজার নাবিক অনিশ্চিত অবস্থায় আটকা পড়েছিলেন। যুদ্ধের আগে এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত, যা যুদ্ধ শুরুর পর শূন্যের কোঠায় নেমে আসে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের নির্ধারিত বিশেষ পথ ব্যবহার করে হাতেগোনা কয়েকটি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই