Image description

প্রায় সাত বছর পর উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ৮ ও ৯ জুনের এই রাষ্ট্রীয় সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু দুই দেশের ঐতিহ্যগত বন্ধুত্বের বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং পূর্ব এশিয়ার পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন কৌশলগত বার্তাও বহন করছে।

চীনা ও উত্তর কোরীয় রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সফরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করবেন শি জিনপিং। ২০১৯ সালের পর এটিই তাঁর প্রথম পিয়ংইয়ং সফর এবং ২০২৬ সালে এটিই হতে যাচ্ছে তাঁর প্রথম বিদেশ সফর।

বিশ্লেষকদের ধারণা, সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বৃদ্ধিতে কিছুটা উদ্বিগ্ন চীন। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের সহযোগিতা বাড়ার পর বেইজিং চাইছে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নিজেদের ঐতিহ্যগত প্রভাব ও সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে।

সফরের আগে উত্তর কোরিয়া আবারও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা নিজেদের পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে দেখে এবং নিরস্ত্রীকরণের দাবি গ্রহণ করবে না। দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব পারমাণবিক কর্মসূচি আরও জোরদারের ঘোষণাও দিয়েছে। ফলে শি–কিম বৈঠকে নিরাপত্তা ও পারমাণবিক ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সীমান্ত বাণিজ্য, পর্যটন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে থাকা উত্তর কোরিয়ার জন্য চীন এখনো সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অংশীদার ও কূটনৈতিক সমর্থক।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিংয়ের এই সফর থেকে স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যাচ্ছে যে, চীন উত্তর কোরিয়ার ওপর তার প্রভাব ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে এটি রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার নতুন কৌশলগত সমীকরণ নিয়েও বিশ্বকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে।

সব মিলিয়ে, সাত বছর পর শি জিনপিংয়ের পিয়ংইয়ং সফরকে শুধু একটি কূটনৈতিক সফর নয়, বরং পূর্ব এশিয়ার ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।