যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, এই সমঝোতার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত অবসানের পথে এগোবে।
চুক্তি অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার করবে এবং মার্কিন নৌবাহিনীও তাদের অবরোধ তুলে নেবে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের মাধ্যমে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-ইরান ভবিষ্যতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না বলে নিশ্চয়তা দিয়েছে।
তবে চুক্তি ঘোষণার পরও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের স্থায়ী সমাধান ছাড়াই শুধু যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতিকে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে পারে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্পের সামনে এখন তিনটি বড় প্রশ্ন রয়েছে। প্রথমত, পারমাণবিক ইস্যুর স্থায়ী সমাধান ছাড়া এই চুক্তি কতটা কার্যকর হবে। দ্বিতীয়ত, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়কার পারমাণবিক চুক্তির চেয়ে এটি কতটা উন্নত। তৃতীয়ত, সাম্প্রতিক সংঘাতের মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র কী অর্জন করেছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতির ফলে পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা তেলবাহী জাহাজ চলাচল শুরু করলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম কমতে পারে, যা ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে সমালোচকরা বলছেন, যুদ্ধের কারণে প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির পরও যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য কোনো কৌশলগত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। ডেমোক্র্যাট নেতা অ্যাডাম স্মিথের ভাষায়, যুদ্ধ বন্ধ হওয়া ইতিবাচক হলেও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থাতেই ফিরে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ভবিষ্যতে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কী অবস্থান নেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে এই চুক্তির সফলতা। ফলে এটিকে এখনই ট্রাম্পের বড় বিজয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।




Comments