Image description

স্যানিটারি পণ্যের ওপর আরোপিত ১৮ শতাংশ বিক্রয় কর বা ‘পিরিয়ড ট্যাক্স’ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। দেশটির অধিকারকর্মীরা বলছেন, এ পদক্ষেপ নারীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার পাশাপাশি এ বিষয়ে সমাজে প্রচলিত সংকোচ ও ট্যাবু দূর করতে সহায়তা করবে।

সম্প্রতি ঘোষিত জাতীয় বাজেটে স্যানিটারি পণ্য ও গর্ভনিরোধক সামগ্রীর ওপর আরোপিত ১৮ শতাংশ বিক্রয় কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব বলেন, নারীদের স্বাস্থ্য, মর্যাদা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এসব পণ্য অপরিহার্য।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে দীর্ঘ আইনি লড়াইও ভূমিকা রেখেছে। গত বছরের অক্টোবরে দুই তরুণ আইনজীবী আহসান জাহাঙ্গীর খান ও মাহনুর ওমর স্যানিটারি পণ্যের ওপর আরোপিত কর বাতিল এবং এসব পণ্যকে বিলাসপণ্য নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন।

মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, পাকিস্তানে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত স্যানিটারি পণ্যের ওপর ১৮ শতাংশ বিক্রয় কর এবং আমদানিকৃত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। ফলে অন্যান্য কর যুক্ত হয়ে নারীদের এসব পণ্য কিনতে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয়।

আইনজীবীদের দাবি ছিল, এই করব্যবস্থা নারীদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং তা সংবিধানের লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যবিরোধী নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের মতে, স্যানিটারি পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক নারী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসামগ্রী থেকে বঞ্চিত হন।

মামলার পর আদালত সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চায়। জবাবে সরকার জানায়, কর কাঠামোটি রাজস্ব আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে এবং তা বৈষম্যমূলক নয়। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই সরকারের অবস্থানে পরিবর্তন দেখা যায় এবং নতুন বাজেটে বিক্রয় কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব আনা হয়।

যদিও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন অধিকারকর্মীরা, তবু মামলার আবেদনকারীরা বলছেন, স্যানিটারি পণ্যের কাঁচামালের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্কসহ পুরো করব্যবস্থাই বাতিল করা প্রয়োজন। তাদের মতে, কেবল বিক্রয় কর প্রত্যাহার করলেই নারীদের জন্য পণ্যগুলো পুরোপুরি সাশ্রয়ী হবে না।

এদিকে সরকারের ঘোষণার পরও মামলাটি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের জবাব পাওয়ার পর মামলাটি এখন চূড়ান্ত শুনানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, কর প্রত্যাহারের পরও নিম্নআয়ের নারীদের জন্য স্যানিটারি পণ্য সহজলভ্য নাও হতে পারে। কারণ পাকিস্তানের উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে এবং এক প্যাকেট স্যানিটারি প্যাড কিনতে তাদের দৈনিক আয়ের বড় একটি অংশ ব্যয় করতে হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, কর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নারীদের স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও সবার নাগালের মধ্যে পণ্য পৌঁছে দিতে আরও নীতিগত উদ্যোগ প্রয়োজন হবে।