Image description

তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের জনজীবন। রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রার মধ্যে ফ্রান্সের পশ্চিমাঞ্চলে হাজার হাজার ঘরবাড়ি বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং রেল ভ্রমণে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির ব্রিটানি অঞ্চলে প্রায় ৬৮ হাজার ঘরবাড়ি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। বুধবার রাতের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে জানানো হয়েছে।

ফ্রান্সের আবহাওয়া সংস্থা ‘মেতেও ফ্রান্স’-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অর্ধেকেরও বেশি এলাকায় এখনো রেড অ্যালার্ট জারি রয়েছে। বুধবার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর আগের দিন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ল্যান্ডেস অঞ্চলের পিসোস গ্রামে ৪৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ।

ফ্রান্সের পাশাপাশি পশ্চিম ইউরোপের অন্যান্য দেশেও দাবদাহের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে। নেদারল্যান্ডসের কয়েকটি অঞ্চলে বিপজ্জনক গরমের কারণে ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় রেড অ্যালার্ট বহাল রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। এ পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের অন্তত এক হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ইংল্যান্ডের ৫৭৮টির বেশি স্কুল রয়েছে, যার বেশিরভাগই দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত।

তীব্র গরমের কারণে যাত্রীদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে যুক্তরাজ্যের রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রেড অ্যালার্ট জারি থাকা অঞ্চলে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে ইতোমধ্যে কয়েকটি রেল অপারেটর তাদের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে। পাশাপাশি যাত্রীদের জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় অল্প সময়ের নোটিশে ট্রেন চলাচল বাতিলও করা হতে পারে।

এদিকে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইপিসিসির চেয়ারম্যান জিম স্কেয়া সতর্ক করে বলেছেন, চলতি সপ্তাহে ইউরোপে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা দীর্ঘদিনের জলবায়ু পূর্বাভাসের প্রায় চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গেছে। বর্তমানে যে মাত্রার তাপপ্রবাহ দেখা যাচ্ছে, তা অনেক ক্ষেত্রে পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির হিসাব অনুযায়ী, বুধবার ইউরোপের অন্তত ৯ কোটি ৪০ লাখ মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মধ্যে অবস্থান করছেন। তাদের বেশিরভাগই ফ্রান্স ও স্পেনের বাসিন্দা।

জিম স্কেয়ার মতে, ভবিষ্যতেও ইউরোপকে এ ধরনের তীব্র তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হতে হবে। বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেলে বছরের সবচেয়ে উষ্ণ দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় আরও ৩ থেকে সাড়ে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। ফলে দাবদাহ ইউরোপের জন্য ক্রমেই আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।