চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আজ শুক্রবার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টায় দুই নেতার মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করা এবং ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠা করা। পাশাপাশি চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও জোরদার করাও সফরের প্রধান লক্ষ্য।
শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিংয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান। গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়েছে, এসব সমঝোতা স্মারক বাংলাদেশ ও চীনের কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে চীনের পানি সম্পদমন্ত্রী লি গুয়িংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, বিভিন্ন নদ-নদীর ব্যবস্থাপনা, বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা এবং পানি সম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়।
এ ছাড়া চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে ‘পার্টি-টু-পার্টি’ বৈঠক করেন তারেক রহমান। বৈঠকে বিএনপি ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, আজকের শি জিনপিং-তারেক রহমান বৈঠকে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, তিস্তা প্রকল্প, নদী ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করছেন তারা।




Comments