দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। গত ১৭ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত মাত্র ৯ দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ১০৫ জন রোগী। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৭ জুন ১৫ জন, ১৮ জুন ১১ জন, ১৯ জুন ৯ জন, ২০ জুন ১৪ জন, ২১ জুন ৭ জন, ২২ জুন ৭ জন, ২৩ জুন ১০ জন, ২৪ জুন ১৫ জন এবং ২৫ জুন ১৭ জন ডায়রিয়া রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জুন মাসের শুরু থেকেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে গত ৯ দিনে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৫৩১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র শয্যা সংকট।
সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে মেঝে ও বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগ বাড়লেও চিকিৎসক ও নার্সরা সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
আলাদিপুর গ্রামের গ্রাম্য চিকিৎসক আনোয়ার হোসেন বলেন, “প্রায় প্রতিটি গ্রামেই এখন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি।”
মাদিলাহাট এলাকার গ্রাম্য চিকিৎসক নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “জুন মাসের শুরু থেকেই পেটব্যথা, পাতলা পায়খানা ও ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গুরুতর রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হচ্ছে।”
বাসুদেবপুর গ্রামের এক শিশুর মা বলেন, “বেড না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। তবে চিকিৎসক ও নার্সরা আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।”
একই গ্রামের শিক্ষক বাদশা হোসেন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে বুধবার বাড়ি ফিরেছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “আবহাওয়ার পরিবর্তন, ঠান্ডা-গরম এবং বাইরের খাবার খাওয়ার কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা বেশি। তবে অধিকাংশ রোগী দু-একদিন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. সাজেদুল ইসলাম সাজু বলেন, “তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৮০ জনের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকছেন, যা হাসপাতালের নির্ধারিত শয্যা সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি। তারপরও সীমিত জনবল নিয়ে চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখা হচ্ছে।”
স্বাস্থ্য বিভাগ ডায়রিয়া প্রতিরোধে বিশুদ্ধ পানি পান, বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিহার এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে।




Comments