Image description

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ সীমিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিভিন্ন প্রবেশপথে পণ্যবাহী ট্রাক আটকে দেওয়ায় বাজারে জরুরি পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি এবং পাকিস্তানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজাদ কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় মুদি দোকান, ওষুধের দোকান এবং পেট্রোল পাম্পে প্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক বাসিন্দাকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে পার্শ্ববর্তী প্রদেশ ও শহরে যেতে হচ্ছে।

পাকিস্তানের দৈনিক ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী মুজাফফরাবাদের অনেক বাসিন্দা খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানি সংগ্রহের জন্য খাইবার পাখতুনখোয়ায় যাচ্ছেন। অন্যদিকে পুঞ্চ, রাওয়ালাকোট, বাঘ ও নীলম উপত্যকার বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে রাওয়ালপিন্ডি ও ইসলামাবাদের ওপর নির্ভর করছেন।

এদিকে অঞ্চলে সাংবাদিকদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ এবং ইন্টারনেট সেবা সীমিত করার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অনেক এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ অথবা অত্যন্ত ধীরগতির হয়ে পড়েছে, ফলে পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য আদান-প্রদান ব্যাহত হচ্ছে।

গত ৫ জুন সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থা বাতিল এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন শুরু করে রাজনৈতিক জোট জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএকে)। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৯ জুন ডাকা হরতালের পর থেকেই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে থাকে।

এর আগে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৫ শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তবে সংবাদমাধ্যম ও ইন্টারনেট সেবার ওপর বিধিনিষেধ থাকায় বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের অভিমত।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ব্যাপক গ্রেফতার অভিযানের কারণে আন্দোলনের তীব্রতা কিছুটা কমে এলেও পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে আজাদ কাশ্মীরের প্রবেশপথে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী ট্রাক আটকে থাকতে দেখা গেছে।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সরকার রক্তপাত ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চায়। তার দাবি, জরুরি পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হলে আন্দোলনের গতি স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে।

অন্যদিকে জেএএকে নেতারা জানিয়েছেন, তারা আন্দোলন থেকে সরে আসবেন না। দাবি আদায়ে এক লাখ মানুষের অংশগ্রহণে রাওয়ালাকোট থেকে রাজধানী মুজাফফরাবাদ পর্যন্ত লংমার্চ কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছে বলেও জানিয়েছেন তারা।