জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিং মামলায় আত্মসমর্পণকারী চাকরিচ্যুত পুলিশ কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রী ফারহানা ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোরের বিশেষ দায়রা জজ (জেলা ও দায়রা জজ) এসএম নূরুল ইসলাম তাদের জামিন আবেদন শুনানি শেষে আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।
আসামি জসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রী ফারহানা ইসলাম যশোরের চৌগাছা উপজেলার জামতলা গ্রামের বাসিন্দা।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্যানেল আইনজীবী (পিপি) আসাদুজ্জামান খান সেলিম।
মামলার নথি অনুযায়ী, জসিম উদ্দিন ২০০২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। পরে ২০১২ সালের ১৮ ডিসেম্বর তিনি সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) পদে পদোন্নতি লাভ করেন। চাকরিরত অবস্থায় দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৮ সালের ১৮ মে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
পরে বিষয়টি দুদকের নজরে এলে ২০১৯ সালের ১০ জুলাই জসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব চেয়ে পৃথক নোটিশ দেওয়া হয়।
দুদকের তদন্তে জসিম উদ্দিনের নামে ১০ লাখ ৬৩ হাজার ২৩৩ টাকার এবং তার স্ত্রী ফারহানা ইসলামের নামে ১ কোটি ৩১ লাখ ১ হাজার ৭৯০ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে তাদের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার ২৩ টাকা।
তদন্তে বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে মাত্র ৬ লাখ টাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। ফলে তাদের জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৩৫ লাখ ৬৫ হাজার ২৩ টাকা।
এ ঘটনায় ২০২০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, যশোরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ২০২১ সালের ২১ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়। সে সময় তাদের পলাতক দেখানো হয়েছিল।
পরবর্তীতে আদালত মামলায় অভিযোগ গঠন করে ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর বৃহস্পতিবার জসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান।
শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।




Comments