Image description

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে একটি শিশু জীবিত আটকে থাকার গুজব ছড়িয়েছে। ‘তাহিতি’ নামের ওই ভবনটি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে চলা এই নাটকীয়তায় একদিকে যেমন প্রাণের আশা জেগেছে, অন্যদিকে উদ্ধারকাজ নিয়ে স্বজনদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে ধ্বংসস্তূপের নিচে একটি শিশু এখনো জীবিত আছে। এরপরই স্থানীয়দের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। একদল এখনো কাউকে জীবিত উদ্ধারের আশায় ধীরগতিতে খননকাজ চালানোর পক্ষে, অন্যদল তাদের প্রিয়জনদের মরদেহ দ্রুত খুঁজে বের করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

এক সপ্তাহেরও বেশি আগে দেশটিতে হওয়া দুই দফা ভূমিকম্পে ২,৬০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ হওয়ার তালিকায় ‘তাহিতি’ ভবনটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

মার্কিন উদ্ধারকারী দল শুক্রবার জানিয়েছে, তারা প্রশিক্ষিত কুকুর এবং উচ্চ-সংবেদনশীল যন্ত্র দিয়ে ধ্বংসস্তূপ পরীক্ষা করে কোনো প্রাণের অস্তিত্ব পায়নি। তবে এক ভেনেজুয়েলীয় স্বেচ্ছাসেবক দাবি করেছেন, তিনি ভোরের দিকে ভেতর থেকে কান্নার শব্দ শুনেছেন। তার দাবি, শিশুটি হয়তো অনেক গভীরে আটকে থাকায় কুকুরগুলো তাকে খুঁজে পাচ্ছে না।

এদিকে, একের পর এক অসমর্থিত তথ্য ও গুজবে চরম বিরক্তি প্রকাশ করেছেন স্বজনহারা পরিবারগুলো। ধ্বংসস্তূপে নিজের বাবা ও বোনের মরদেহ খুঁজতে থাকা হোসে ফ্রান্সিসকো লিয়েনদো বলেন, ‘প্রথমে বলা হলো একটি শিশু বেঁচে আছে, তারপর বলা হলো সে শ্বাস নিচ্ছে, পরে আবার বলা হলো সে সংকেত দিচ্ছে। তারা আমাদের কষ্ট নিয়ে খেলা করছে, পুরো সত্যটা কেউ বলছে না।’

আরেক বাসিন্দা আলোয়া গনজালেস বলেন, ‘যদি সত্যিই কেউ বেঁচে থাকে, আমরা সবাই তাকে উদ্ধারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। কিন্তু তথ্যের এই বিভ্রান্তি আমাদের জন্য পরিস্থিতিকে আরও অসহনীয় করে তুলেছে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের ৭২ ঘণ্টা পর সাধারণত জীবিত থাকার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবে এখন পর্যন্ত ৬,৪৬২ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন উদ্ধারকারীরা। নিখোঁজ ব্যক্তিদের কোনো আনুষ্ঠানিক সংখ্যা সরকার প্রকাশ না করলেও জাতিসংঘের অনুমান অনুযায়ী এই সংখ্যা ৫০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, নিহতদের যথাযথ পরিচয় শনাক্ত করা হবে এবং কোনো গণকবর ব্যবহার করা হবে না।

মানবকণ্ঠ/ডিআর