ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের জেরে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাতার এনার্জি। চলতি ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সোমবার (৬ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিই এ সংকটের মূল কারণ। তবে সরবরাহ ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। খোলা বাজার থেকে বেশি দামে গ্যাস কেনা এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, দেশের জন্য সবচেয়ে অনুকূল বাণিজ্যিক শর্ত পাওয়া গেলে সেই উৎস থেকেই এলএনজি আমদানি করা হবে। অন্যদিকে কাতার এনার্জি জানিয়েছে, সরবরাহ কমলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
গত বছর বাংলাদেশ প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন এলএনজি আমদানি করে, যার মধ্যে ৪১ লাখ ৫০ হাজার টনই আসে কাতার থেকে। ফলে দেশটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এলএনজি সরবরাহকারী।
বর্তমানে কাতার এনার্জির সঙ্গে পেট্রোবাংলার দুটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। একটি চুক্তির আওতায় বছরে ২৫ লাখ টন এবং অন্যটির আওতায় ১৮ লাখ টন এলএনজি সরবরাহের কথা। তবে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির পর যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কাতারের রাস লাফান রপ্তানি কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে আর কোনো এলএনজি কার্গো পৌঁছায়নি।
বিশ্বের মোট এলএনজি পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে হয়। যুদ্ধের পর থেকে এ পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে কাতার থেকে কিছু কার্গো রওনা হলেও সেগুলোর কোনোটিই বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারেনি।
এ পরিস্থিতিতে দেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণে গত মার্চ থেকে বাংলাদেশ স্পট মার্কেট থেকে রেকর্ড ৩৫টি এলএনজি কার্গো আমদানি করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কাতার এনার্জির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে নতুন করে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স।




Comments