Image description

বিশ্বকাপ চলাকালেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের শাস্তি প্রত্যাহার। ফিফার এই সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাব ছিল কি না, তা নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে ফিফা ঘোষণা দেয়, বালোগুনের এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়েছে। ফলে তিনি ম্যাচটিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। ঘোষণার পরপরই ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, “যা সঠিক ছিল, সেটাই করেছে ফিফা। একটি বড় অন্যায়ের সংশোধন করার জন্য ধন্যবাদ।” তার এই মন্তব্য বিতর্ককে আরও উসকে দেয়।

শেষ ৩২-এর ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে খেলতে গিয়ে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান বালোগুন। মাঠের রেফারি প্রথমে কোনো ফাউল না দিলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পরামর্শে রিপ্লে দেখে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।

ফিফা তখন জানায়, এটি গুরুতর ফাউল হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে এবং এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগও নেই।

পরে কেন বদলে গেল সিদ্ধান্ত?

দুই দিন পর ফিফা জানায়, তাদের ডিসিপ্লিনারি কোডের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচার বিভাগীয় কমিটি বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো শাস্তি আংশিক বা সম্পূর্ণ স্থগিত করার ক্ষমতা রাখে। সেই বিধান প্রয়োগ করেই বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়েছে।

তবে লাল কার্ডটি বাতিল হয়নি। এটি এক বছর তার রেকর্ডে থাকবে। এ সময়ের মধ্যে একই ধরনের গুরুতর অপরাধ করলে স্থগিত থাকা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান দাবি করেছে, বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্প অন্তত তিনবার ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন যাতে বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। যদিও এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস কিংবা ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

এছাড়া কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের ওয়ার্ল্ড কাপ টাস্কফোর্স ভিএআরের ধীরগতির রিপ্লে ব্যবহার করে শাস্তি দেওয়ার বৈধতা নিয়েও আইনি যুক্তি তুলে ধরেছিল।

ক্ষুব্ধ বেলজিয়াম

ফিফার সিদ্ধান্তে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বেলজিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতা বিধিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের দাবি, স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি সব অংশগ্রহণকারী দেশকে আগেই জানানো হয়েছিল এবং তারা সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু

বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হওয়ায় তিনি বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলতে পারছেন। তবে এর চেয়েও বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে। সমালোচকদের মতে, নিয়ম কি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য, নাকি বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক প্রভাব সিদ্ধান্তকে বদলে দিতে পারে—এই প্রশ্নই এখন বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত ইস্যু।