Image description

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে দেশটির বিভিন্ন স্থানে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৮০টি স্থানে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া গত মাসে ২১ আগস্ট পর্যন্ত যে সীমিত সময়ের জন্য ইরানের তেল রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই অনুমোদনের মেয়াদ ১৭ জুলাই পর্যন্ত সীমিত থাকবে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’। এ ঘটনার জন্য ইরানকে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

এদিকে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ হামলার দায় এখনো কেউ স্বীকার করেনি। ইরানের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উত্তেজনা বাড়লেও ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা এখনও চলছে। তবে সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা পদক্ষেপে দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হতো। অন্যদিকে, তেল রপ্তানি ইরানের অর্থনীতির প্রধান আয়ের উৎসগুলোর একটি। দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও দেশটি বিশেষ করে চীনে তেল রপ্তানি বাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে আসছে।

সূত্র: রয়টার্স