সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে হঠাৎ করে ভিসা বাতিলের ঘটনায় চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পূর্বঘোষণা ছাড়াই দেশটিতে কর্মরত বহু বাংলাদেশির ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ পর্যন্ত দেশে অবস্থানরত প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হয়েছে বলে জানা গেছে। একই ধরনের সমস্যায় পড়েছেন পাকিস্তান, নেপালসহ আরও কয়েকটি দেশের কর্মীরাও।
এমন পরিস্থিতিতে ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন প্রবাসীরা। নোয়াখালীর আবুধাবিপ্রবাসী তাহের হোসেন আট বছর ধরে একটি লন্ড্রি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। দুই বছর পর এক মাসের ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরলেও আবুধাবি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে গিয়ে জানতে পারেন, তার কর্মভিসা বাতিল হয়ে গেছে। ফলে তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে ফিরে আসতে হয়েছে।
তাহের হোসেন বলেন, পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটিয়ে কাজে ফিরছিলেন। কিন্তু বিমানবন্দরে নেমেই জানতে পারেন তার ভিসা বাতিল হয়েছে। এতে তিনি হতাশ হয়ে পড়েছেন এবং এখন পরিবার ও ঋণের বোঝা কীভাবে সামলাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
জানা গেছে, ২২ জুলাই থেকে পূর্বঘোষণা ছাড়াই বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার ঘটনা সামনে আসতে শুরু করে। অনেক প্রবাসী অনলাইনে ভিসার স্ট্যাটাস যাচাই করে ‘ক্যানসেল’ দেখতে পাচ্ছেন। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। ফলে কতজনের ভিসা বাতিল হয়েছে এবং কেন এমন হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে ভিসা বাতিলের আশঙ্কায় নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থলে ফিরতে চাইছেন অনেক প্রবাসী। কিন্তু একমুখী বিমান টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে তারা নতুন সংকটে পড়েছেন। আগে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় পাওয়া টিকিটের দাম এখন ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকারও বেশি চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রবাসীরা।
রাস আল খাইমাহপ্রবাসী এস এম করিম জানান, কয়েকদিন আগেও যে টিকিট ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, এখন একই টিকিটের জন্য প্রায় ৯৫ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে। এতে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফেরা কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, বিষয়টি শুধু বাংলাদেশের নয়; পাকিস্তান, নেপালসহ আরও কয়েকটি দেশের কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। কী কারণে ভিসা বাতিল হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি উত্থাপন করবে।
আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, ভিসা বাতিল হওয়া প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ জনের আবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং আরও প্রায় ১ হাজার ৪০০টি আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
দূতাবাস আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, ভিসা সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে কোনো ব্যক্তি, দালাল বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন না করতে। ভিসাসংক্রান্ত যেকোনো জটিলতায় সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সরাসরি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।




Comments