অস্ট্রেলিয়ার কিং আইল্যান্ডে অবস্থিত ডলফিন মাইন আবারও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খনিটিতে বিপুল পরিমাণ টাংস্টেনের মজুত রয়েছে। যুদ্ধ ও প্রতিরক্ষা শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ এই ধাতুর বৈশ্বিক চাহিদা বাড়তে থাকায় খনিটি ঘিরে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ডলফিন মাইন বিশ্বের অন্যতম উল্লেখযোগ্য টাংস্টেনের মজুতস্থল। টাংস্টেন অত্যন্ত শক্ত ধাতু, যা প্রতিরক্ষা সরঞ্জামসহ বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়। অস্ট্রেলিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য দেশও এটিকে গুরুত্বপূর্ণ বা ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেল’ হিসেবে বিবেচনা করছে।
গত এক শতাব্দীতে বিভিন্ন সময় খনিটি চালু ও বন্ধ হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯১৭ সালে উৎপাদন শুরু হয়। পরে টাংস্টেনের দাম ও চাহিদার পরিবর্তনের কারণে খনি বন্ধ হয়ে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে ১৯৩৮ সালে আবার কার্যক্রম শুরু হয়। কোরিয়া ও ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ও টাংস্টেনের চাহিদা খনিটির কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে।
দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালে খনিটি পুনরায় উন্নয়নের কাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালে ডলফিন মাইন থেকে বাণিজ্যিকভাবে টাংস্টেন কনসেনট্রেট উৎপাদনও শুরু হয়েছিল। বর্তমানে পুরোদমে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ভূগর্ভস্থ আকরিক উত্তোলন ও সরবরাহ শুরুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।
বিশ্বের অধিকাংশ টাংস্টেন চীন উৎপাদন করে। ফলে চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ বিকল্প উৎস খুঁজছে। এ কারণে অস্ট্রেলিয়ার ডলফিন মাইনসহ বিশ্বের বিভিন্ন টাংস্টেন প্রকল্পের গুরুত্ব বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ধাতুর সরবরাহ নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাজাখস্তানের একটি বড় টাংস্টেন মজুত থেকে খনিজ উত্তোলনে যুক্তরাষ্ট্র ১৬০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি করেছে।
বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টাংস্টেনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রতিযোগিতাও তীব্র হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ডলফিন মাইনকে ঘিরে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে।
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
এসএস




Comments