Image description

ভারতের নয়াদিল্লিতে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ব্রিকসের ১৮তম সম্মেলন। এবারের সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ সদস্য দেশগুলোর নেতারা অংশ নেবেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়োজনে দুই দিনের এই সম্মেলনে পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত বিশেষ গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নিয়ে ব্রিকস দেশগুলোর অবস্থান কী হবে, সেদিকে নজর থাকবে।

ইরান চায়, এই সংঘাত নিয়ে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো একটি অভিন্ন অবস্থান নিক এবং তা যৌথ ঘোষণায় তুলে ধরা হোক। তবে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।

ব্রিকসের অর্থনৈতিক নীতিও এবারের সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ বা ‘ডি-ডলারাইজেশন’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই ব্রিকসের সমালোচনা করে আসছে।

সম্মেলনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পাবে। সীমান্ত বিরোধসহ দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

ব্রিকসের ১১ সদস্য দেশ বিশ্বের মোট অর্থনীতির এক-চতুর্থাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করে। বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষও এসব দেশে বসবাস করে। ফলে এবারের সম্মেলনের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে ইরান ইস্যুতে ব্রিকসের অভিন্ন অবস্থান তৈরি করা সহজ হবে না। কারণ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে ভিন্ন অবস্থান নিতে পারে। গত মে মাসে নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও মতপার্থক্যের কারণে কোনো যৌথ ঘোষণা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ কারণে এবারের সম্মেলনে ইরান ইস্যুতে ব্রিকস দেশগুলো কতটা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

এসএস