আগামী ১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে গড়ে তোলা হয়েছে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়। সম্মেলনের মূল কেন্দ্র প্রগতি ময়দানের ভারত মণ্ডপম হলেও নিরাপত্তার জোরদার করা হয়েছে শহরজুড়ে। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষ কূটনীতিকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে নয়াদিল্লি জুড়ে জল, স্থল ও আকাশে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সম্মেলন চলাকালে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং ভিভিআইপিদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে দিল্লি পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ একযোগে বিশাল পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। রাজধানী নিরাপত্তার দায়িত্বে নামানো হয়েছে অন্তত ৭ হাজার নিরাপত্তা কর্মী। পাশাপাশি সড়কপথে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থার সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবেন প্রায় ৪৮শ' জন ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা।
ভারত মণ্ডপম ঘিরে পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসার্ধ এলাকাকে মূল নিরাপত্তা বলয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর বহিরাংশের সুরক্ষায় নিয়োজিত থাকবে দিল্লি পুলিশ ও প্যারা মিলিটারি ফোর্সের সদস্যরা। তবে অভ্যন্তরীণ ও অতি সংবেদনশীল অঞ্চলগুলোর সুরক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে জাতীয় নিরাপত্তা গার্ডের (এনএসজি) কমান্ডো, গোয়েন্দা সংস্থা (আইবি) এবং স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপের (এসপিজি) বিশেষায়িত টিমের সদস্যরা। পুরো সম্মেলন এলাকা জুড়ে বায়োমেট্রিক নজরদারি, সিসিটিভি ক্যামেরা ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক এক্সেস কন্ট্রোল ব্যবহার করা হচ্ছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বোম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড (বিডিডিএস) এবং অ্যান্টি-সাবোটাজ টিম ইতিমধ্যেই তাদের মহড়া সম্পন্ন করেছে। তাছাড়া অনাকাঙ্ক্ষিত ড্রোন হামলা বা আকাশে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ রোধে ড্রোনবিরোধী প্রযুক্তি ও আকাশপথের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
বিদেশি অতিথিরা যেসব অভিজাত হোটেলে অবস্থান করছেন, সেগুলোকে ২৪ ঘণ্টা কড়া গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে হোটেল এবং হোটেল থেকে ভারত মণ্ডপম পর্যন্ত ভিভিআইপি রুটগুলোর সার্বিক নিয়ন্ত্রণ নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর হাতে থাকবে। এ সময় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ৩৫টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়ক বিশেষ বিধিনিষেধের আওতায় আসবে। পাশাপাশি ২২টি প্রধান মোড়ে ট্রাফিক ঘুরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে জরুরি পরিষেবা যেমন অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের যেন কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। জিও-ট্যাকিং ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কনভয়ের সুনির্দিষ্ট অবস্থান রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সহজ করতে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দিল্লির সব সরকারি-বেসরকারি স্কুল এবং সরকারি অফিসসমূহ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মীদের ওয়ার্ক ফ্রম হোমের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে জনসাধারণের জন্য বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষকে নয়াদিল্লির সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে যাতায়াত না করতে এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের বদলে মেট্রো পরিষেবা ব্যবহার করতে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিমানবন্দর বা প্রধান রেলওয়ে স্টেশনগামী যাত্রীদের পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
এমআর




Comments