Image description

ভারতের উত্তর কলকাতার কসিপুরের চিতপুর জ্যোতিনগর কলোনির বাসিন্দারা গত দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত পানি সরবরাহ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। পাইপলাইনের কাজের অজুহাতে ওই এলাকার পাঁচটি সরকারি কলই অকেজো বা পানিশূন্য করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৫ হাজার মানুষের বসতিপূর্ণ ২০০ মিটার দীর্ঘ এই জনবসতিটি মূলত স্বল্প আয়ের ও সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের।

পানির তীব্র অভাবে এখানকার বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মুসলিম পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এই বস্তি থেকে তাঁদের উচ্ছেদ করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবেই পানি সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।

বঞ্চনা ও ভৌগোলিক বৈষম্যের অভিযোগ:
শত বছরের পুরনো ‘কাশীপুর গান অ্যান্ড শেল ফ্যাক্টরি’র নিকটবর্তী এই কলোনিতে আগে প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত নিয়মিত পানি পাওয়া যেত। স্থানীয়দের তথ্যমতে, গত ২৯ জুলাই থেকে ওই পাঁচটি কলের একটিতেও এক ফোঁটা পানি আসছে না। বাসিন্দারা জানান, পাইপলাইনের কাজের কথা বলে বস্তির দুই মাথায় দুটি গর্ত খুঁড়ে রাতের আঁধারে পাইপলাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ এই এলাকার ঠিক আগের ও পরের হিন্দু-প্রধান আবাসিক এলাকার কলগুলোতে নিয়মিত পানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।

বসবাসকারীদের জীবনযাত্রা ও সংগ্রাম:
জ্যোতিনগর কলোনির বাসিন্দাদের প্রায় ৯৫ শতাংশই মুসলিম। এখানকার পুরুষেরা মূলত দিনমজুর, রাজমিস্ত্রি, চালক, রিকশাচালক বা কারখানার শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। অন্যদিকে নারীরা সকালের গৃহস্থালি কাজ সেরে স্থানীয় কারখানাগুলোতে কাচের বোতল পরিষ্কার বা প্যানেল ভাঙার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করেন। পানির এমন হাহাকারের পাশাপাশি এর আগে বস্তিটির বিদ্যুৎ সংযোগও কেটে দেওয়া হয়েছিল। পরে ‘বস্তী উন্নয়ন সমিতি’র তীব্র আন্দোলনের মুখে প্রায় এক সপ্তাহ পর বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করা হয়।

স্থানীয় এক নারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা এই এলাকায় নতুন নই, আমার জন্ম এখানেই। এত সহজে আমাদের এই জায়গা ছেড়ে যেতে দেব না, আমরা অধিকারের জন্য লড়াই করব।”

প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও রাজনৈতিক বিতর্ক:
এলাকাবাসী পানির সংকটের স্থায়ী সমাধানের দাবিতে স্থানীয় থানা, কাউন্সিলর এবং বিধানসভার স্থানীয় বিধায়কের দ্বারস্থ হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেননি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার মুসলমানদের জন্য কোনো কাজ বা উন্নয়নমূলক সহায়তা করবেন না। সেই রাজনৈতিক আক্রোশ ও সাম্প্রদায়িক বিভেদের অংশ হিসেবেই জ্যোতিনগর কলোনিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে পানি সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত এই অমানবিক সংকটের অবসান ঘটিয়ে সুপেয় পানি সরবরাহের জোরালো দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
এমআর