নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জারি করা সীমানা অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই বলে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ফলে সাঁথিয়া উপজেলাকে পাবনা-১ আসন এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলাকে মিলিয়ে পাবনা-২ আসন হিসেবে গণ্য করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। এর মাধ্যমে পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে পাবনা-২ আসনের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের গেজেট অবৈধ ঘোষণার হাইকোর্টের রায় স্থগিত করা হয়।
আদালতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানি করেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।
এর আগে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিলের শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ। ওই রায়ে পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার কিছু অংশ বাদ দিয়ে পাবনা-২ আসনে যুক্ত করার ইসির গেজেটকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হয়েছিল।
গত ১৩ জানুয়ারি পাবনা-১ ও ২ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম স্থগিত রাখার ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। আবেদনে যথাসময়ে নির্বাচন আয়োজন ও নির্বাচনী কার্যক্রম চালুর নির্দেশনা চাওয়া হয়। পাবনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এ আবেদন দায়ের করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমানা সংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণে পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নির্বাচন বন্ধ থাকবে বলেও জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগ ২৪ ডিসেম্বর জারি করা পাবনা-১ ও ২ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত গেজেটের কার্যক্রম স্থগিত করেন। তবে সর্বশেষ আদেশে ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় নির্ধারিত তারিখেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথ সুগম হলো।
সব মিলিয়ে আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে পাবনার দুই আসনে নির্বাচনী অনিশ্চয়তা কেটে গেছে এবং ইসির নির্ধারিত সীমানা অনুযায়ী ভোট আয়োজনের আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments