Image description

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় নতুন মোড় নিয়েছে। আজ সোমবার (১ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানিকালে প্রধান আসামি সোহেল রানা দাবি করেছেন, তিনি এই হত্যাকাণ্ডের একমাত্র হোতা নন। সাংবাদিকদের সামনে তিনি চিৎকার করে বলেন, ‘আমি শুধু ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার। ডলার আমাকে দুই লাখ টাকা দিছে।’

সকাল ১১টার দিকে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে তোলা হয়। এ সময় সোহেল রানা দাবি করেন, তার স্ত্রী নিরপরাধ। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, তার ডিএনএ পরীক্ষা না করেই রিপোর্টে অনেক কিছু লিখে দেওয়া হয়েছে। সোহেল রানার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ডলার’ নামের ওই ব্যক্তি মিরপুর ১১ নম্বর এলাকার একজন প্রভাবশালী ও বিত্তবান লোক।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা ১৮ জনকে সাক্ষী করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এতে সোহেলের বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণ ও হত্যার এবং তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। আজ চার্জ গঠনের মাধ্যমেই এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারের আনুষ্ঠানিক ধাপগুলো শুরু হলো।

দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ‘আমরা আমাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যেন দ্রুততম সময়ে বিচার শেষ হয়। ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।’ তবে জেলা লিগ্যাল এইডের আইনজীবী রায়হানা নাজনীন জুই মনে করেন, নিম্ন আদালতে বিচার দ্রুত শেষ হলেও উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্সসহ বিভিন্ন আইনি ধাপ পার করতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে, যদি না বিশেষ তদারকি থাকে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং বাথরুমের বালতির ভেতর থেকে তার কাটা মাথা উদ্ধার করা হয়। ঘাতক সোহেল রানা গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও পরবর্তীতে তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মানবকণ্ঠ/আরআই