Image description

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির আলোচিত ঘটনার অভিযোগ আমলে নিয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানের স্বার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তিন সাবেক গভর্নর-ড. আতিউর রহমান, ফজলে কবির ও আবদুর রউফ তালুকদারের কার্যক্রম-সংক্রান্ত নথি ও ব্যক্তিগত রেকর্ড চেয়ে বর্তমান গভর্নরের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বুধবার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, রিজার্ভ চুরির অভিযোগের পাশাপাশি এস আলম গ্রুপের ঋণ জালিয়াতি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি এবং ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।

দুদক ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত সিদ্ধান্ত, ঋণসংক্রান্ত কার্যক্রম এবং রিজার্ভ চুরির ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত সব ধরনের নথি তলব করেছে। পাশাপাশি রিজার্ভ চুরির সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারিগরি দায়িত্বে থাকা দুই ভারতীয় নাগরিকের সংশ্লিষ্ট নথিও পাঠাতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া নতুন কয়েকটি ব্যাংকের অনুমোদনসংক্রান্ত নোটশিটের সত্যায়িত কপি, এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন কয়েকটি ব্যাংককে নগদ সহায়তা দেওয়ার অনুমোদনের নথি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর দোহাকে নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনের সত্যায়িত কপিও চেয়েছে দুদক।

আকতারুল ইসলাম বলেন, একক গ্রাহকের ঋণসীমা লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত অর্থ ছাড়, এস আলমের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংকগুলোকে টাকা ছাপিয়ে নগদ সহায়তা প্রদান এবং বিশেষ আর্থিক প্রণোদনার নামে বেআইনি ঋণ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ-সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ দুদকের কাছে রয়েছে।

দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোমিনুল ইসলাম, রণজিৎ কুমার কর্মকার এবং উপসহকারী পরিচালক মো. ইয়াছিন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের একটি বিশেষ দল অভিযোগগুলোর অনুসন্ধান করছে।