জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো কর্মসূচি ঘোষণা না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে জুলাই শহীদ ও আহতদের স্মরণে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভায় দলটির নেতারা এ ক্ষোভের কথা জানান।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, জুলাইয়ের ভয়াল দিনগুলোতে সংঘটিত গণহত্যার বিষয়টি রাষ্ট্রীয়ভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। তা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম প্রকৃত ইতিহাস থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা বিএনপির বড় রাজনৈতিক ভুল। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, সরকার সংস্কারের পরিবর্তে পুরোনো ব্যবস্থার দিকেই এগোচ্ছে।
জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ থাকার অভিযোগ তুলে বুলবুল বলেন, যে আন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে, সেই জুলাইয়ের চেতনাকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়া হলে তা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে। তিনি দাবি করেন, জামায়াত ক্ষমতায় না থাকলেও শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে রয়েছে।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি।
সভায় বক্তব্য দেন জুলাই শহীদ শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদের বাবা শেখ জামাল হাসান। তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটে অংশ নেওয়ার পরও তার প্রত্যাশিত সংস্কার বাস্তবায়ন হয়নি। রাষ্ট্র সংস্কার না হলে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই শহীদ জিহাদ হোসেনের বাবা মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেন, চাঁদাবাজির কারণে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বারবার বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, জুলাই পরিবারের বিষয়ে সরকারপ্রধানকে ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।
এ ছাড়া শহীদ রেজাউল করিমের বাবা আল-আমীন মীর, শহীদ আলিফের বাবা সৈয়দ গাজীউর রহমান, আহত জুলাইযোদ্ধা শাহ আলম গাজী, কামরুল ইসলামসহ অন্য বক্তারাও বক্তব্য দেন। তারা জুলাইয়ের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।




Comments