ঢাবি নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য
ব্যারিস্টার ফুয়াদকে ১০০ কোটি টাকার মানহানি নোটিশ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সম্পর্কে আপত্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাকে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা তহবিলে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
গত ২ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী ও ঢাবির আইন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী তন্ময় কুমার সাহা এই নোটিশ পাঠান। ব্যারিস্টার ফুয়াদের পাশাপাশি শিক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকেও এই নোটিশের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।
নোটিশের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ জুলাই ডাকসু কার্যালয়ে ‘বাঙালি মুসলমানের জাগরণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় ঢাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে অবমাননাকর ও বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য করেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ। তিনি গত ৫০ থেকে ৭০ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের অবদান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তাদের ‘জাতীয় ক্ষতির জন্য দায়ী’ বলে আখ্যা দেন। এছাড়া শিক্ষকদের নিয়ে তিনি বিভাজন সৃষ্টিকারী বক্তব্য দিয়েছেন বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনজীবী তন্ময় কুমার সাহা নোটিশে বলেন, এসব মন্তব্যের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, ব্যারিস্টার ফুয়াদকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে মূলধারার ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। একইসঙ্গে ঐতিহাসিক সুনাম ক্ষুণ্ণ করার দায়ে দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০০ কোটি টাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা তহবিলে জমা দিতে হবে। এই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উন্নয়ন ও জাতীয় সমৃদ্ধির কাজে ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব দাবি পূরণ করা না হলে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলে নোটিশে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকেও ব্যারিস্টার ফুয়াদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments