বাংলায় তখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আমল। তখনও সিপাহী বিদ্রোহ হয়নি। সেই সময়ে বরিশালে এসেছিলেন কবি ও সাংবাদিক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। তিনি অন্তত দুইবার এসেছিলেন বরিশালে। সেক্ষেত্রে এটা নিশ্চিত এই অঞ্চল নিয়ে তার আগ্রহ ছিল। তাই ইতিহাস নিয়ে যাদের আগ্রহ আছে, তাদের জন্য দরকারি একটি বই গুপ্তকবির বরিশাল বিবরণী।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশের বরিশালের বেল্স পার্কে বইটির প্রকাশনা উৎসবে এসব কথা বলেন বরিশালবিষয়ক গবেষক সাইফুল আহসান বুলবুল।
বাংলা ভাষার প্রাচীন পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের বরিশাল ভ্রমণের গদ্য নিয়ে মূলত স্বপ্ন’ ৭১ প্রকাশনের এই গ্রন্থ। যা সংগ্রহ ও সম্পাদনায় ছিলেন লেখক ও সাংবাদিক তায়েব মিল্লাত হোসেন। বরিশাল বিভাগীয় বই মেলা সামনে রেখে প্রকাশিত বইটি নিয়ে বিশেষ আয়োজন হয়েছে মেলার মাঠেই।
বেলস্ পার্কের এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজের অধ্যক্ষ ও গবেষক ড. ফাতেমা হেরেন। তিনি বলেন, বরিশালে হয়তো নতুন নতুন বসতি চোখে পড়ে। কিন্তু সেটা প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষ ঘরবাড়ি হারানোর কারণে হয়ে থাকে। এই অঞ্চল অবশ্যই প্রাচীন জনপদ হিসেবে স্বীকৃত। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের বিবরণে যে সমাজচিত্র রয়েছে, সেখানেও বরিশালের মানুষের জীবন-সংস্কৃতির প্রাচীনতা লক্ষণীয়। আলোচ্য বইটি পাঠে তা কিন্তু স্পষ্ট হয়।
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ‘বরিশাল বিবরণী’ পৌনে দুইশ বছর আগে লেখা ও দেখা বরিশাল। সেক্ষেত্রে বইটি পাঠে কঠিন কিছু শব্দ সামনে আসতে পারে। সেই ভাবনা থেকে শব্দগুলোর অর্থ টীকা আকারে তুলে ধরা হয়েছে। কিছু বিষয়ের ব্যাখা দেওয়া হয়েছে আলাদা করে। বইটি সম্পাদনায় কাজ বলতে এটুকুই বলে জানালেন- এর সম্পাদক তায়েব মিল্লাত হোসেন।
তিনি বলেন, গুপ্তকবির মতো বড়মাপের লেখক ও সম্পাদকের গদ্যে হাত দেওয়ার কিছু নেই। শুধু সহজবোধ্য করতেই টীকার সংযুক্তি। যারা বরিশালকে ভালোবাসেন, যারা ইতিহাস পাঠে আগ্রহী, তারা স্বপ্ন’ ৭১ প্রকাশনের বইটি গ্রহণ করলেই প্রাচীন বিবরণ নতুন করে সামনে আনার উদ্যোগ সার্থক হবে বলে তিনি মনে করেন।
প্রকাশনা উৎসবে আরো উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিকর্মী ও সাংবাদিক সুশান্ত ঘোষ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি কন্ট্রোলার ড. ফয়সাল রাব্বী ও স্বপ্ন’ ৭১ প্রকাশনের প্রকাশক ও লেখক আবু সাঈদ।
ইতিহাসভিত্তিক বই প্রকাশের নতুন উদ্যোগ প্রসঙ্গে আবু সাঈদ বলেন, স্বপ্ন’ ৭১ থেকে ‘আঞ্চলিক গ্রন্থমালা’ শীর্ষক ধারাবাহিক বই প্রকাশ করা হচ্ছে, যার প্রথম প্রয়াস ছিল ‘শহর ময়মনসিংহের ইতিকথা’ দিয়ে। ময়ময়সিংহের বইমেলায় বইটি পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। একই প্রকাশনার ‘আঞ্চলিক গ্রন্থমালা’ ধারাবাহিকের দ্বিতীয় বই ‘বরিশাল বিবরণী’। সামনে এ ধরনের বই আরো প্রকাশ করা হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি




Comments