Image description

সিরাজগঞ্জে ধর্ষণের ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করায় ‘দৈনিক কালের কণ্ঠ’-এর মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি রাব্বি হাসান হৃদয়ের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিককে আসামি করার এই ঘটনায় সিরাজগঞ্জের সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, গত ২৪ জুন র‍্যাব-১২ সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলা থেকে রাব্বি হাসান হৃদয়কে আটক করে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করে। শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দিনাজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা এই মামলায় হৃদয়ের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৮(২), ৮(৫) ও ৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। একই মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে ধর্ষণের অভিযুক্ত নাজমুল হুদাকে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুরের এক গৃহবধূর সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জের নাজমুল হুদার পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ—বিয়ের প্রলোভন, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ও তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নাজমুল তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন এবং অর্থ আদায় করেন। পরে ওই নারী সিরাজগঞ্জে এসে সাংবাদিক রাব্বি হাসান হৃদয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনি সহায়তা ও সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ জানান। হৃদয় তার অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এবং অন্য একটি স্থানীয় পত্রিকায় এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়।

তবে মামলায় বাদী দাবি করেছেন, সাংবাদিক হৃদয় আপত্তিকর ছবি ব্যবহার করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করেছেন। কিন্তু হৃদয়ের সহকর্মীরা এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তাদের মতে, মামলার এজাহারে হৃদয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহযোগিতা বা সরাসরি জড়িত থাকার কোনো অভিযোগ নেই; শুধুমাত্র সংবাদ প্রকাশের জেরে তাকে হয়রানিমূলকভাবে পর্নোগ্রাফি আইনে জড়ানো হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের সাংবাদিক নেতা আব্দুস সামাদ সায়েম বলেন, "ভুক্তভোগী নারী কয়েক মাস আগে তার মাকে নিয়ে সাহায্যের জন্য আমাদের কাছেও এসেছিলেন। আমরা তাকে আইনি পরামর্শ দিয়েছিলাম। এখন শুনছি সংবাদ প্রকাশের কারণে হৃদয়কে আসামি করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং নির্দোষ সাংবাদিক হৃদয়ের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করছি।"

এ বিষয়ে সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর