Image description

মৃত্যুর পঁচিশ বছর পর স্থানান্তর করা হয়েছে প্রখ্যাত লেখক ও বুদ্ধিজীবী আহমদ ছফার কবর। বুধবার মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের সাধারণ ব্লক থেকে বুদ্ধিজীবীদের ব্লকে স্থানান্তর করা হয়। এ সময় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আহমদ ছফার ভাতিজা নূরুল আনোয়ার জানান, আহমদ ছফার মৃত্যুর সময় তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বুদ্ধিজীবী ব্লকে তাকে কবর দিতে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। এছাড়া সিটি করপোরেশনের ওই সময়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা–কর্মচারী বুদ্ধিজীবী ব্লকে কবর দেওয়ার জন্য ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে। কিন্তু ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় সাধারণ ব্লকে তার কবর দেওয়া হয়।

আহমদ ছফার স্বজন ও গুণগ্রাহীরা জানান, সম্প্রতি আহমদ ছফার ভাতিজা নূরুল আনোয়ার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কাছে কবরটি বুদ্ধিজীবী ব্লকে স্থানান্তরের আবেদন করেন।

কবর স্থানান্তরের সময় উপস্থিত থাকা গবেষক অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় আহমদ ছফার কবর স্থানান্তর সম্ভব হলো। 

আহমদ ছফার জন্ম চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামে। শিল্প, সাহিত্য, রাজনীতি বিষয়ে তার লেখা অনেক বই রয়েছে। ভিন্ন ধারার ব্যক্তিত্ব ও লেখক হিসেবে তার রয়েছে বিশেষ পরিচিতি। ২০০১ সালের ২৮ জুলাই তার মৃত্যু হয়। ২০০২ সালে মরণোত্তর একুশে পদক ভূষিত হন তিনি। 

আহমদ ছফা নিয়ে গবেষণা করা রাশেদ এনাম বলেন, জার্মানের গ্যেটে শহরে আহমদ ছফার নামে একটি পানশালা রয়েছে। অথচ দেশে তার নামে কোনো কিছু নেই। আহমদ ছফার নামে তার জন্মস্থানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাঠাগার ও সড়কের নামকরণের দাবি জানান তিনি।  

কবরস্থান স্থানান্তরের তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত ডিএনসিসির সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা গৌতম বিশ্বাস বলেন, এই কবর স্থানান্তর ও কবর বাঁধাইয়ের সব দায়িত্ব ডিএনসিসি করবে। সেভাবেই আহমদ ছফার কবর স্থানান্তরের আদেশ জারি হয়েছে। তার স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ইচ্ছে অনুসারে কবরটা বাঁধাই করা হবে। 

কবর স্থানান্তরের সময় কবি মোহন রায়হান, কবি সাখাওয়াত টিপু, রাজউকের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী উজ্জ্বল মল্লিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।