ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন পবিত্র রমজান মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাসউদ জানিয়েছেন, সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন রোজার মধ্যে করার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে। এছাড়া শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচন ঈদের পর অনুষ্ঠিত হতে পারে।
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসন সংখ্যার আনুপাতিক হারে রাজনৈতিক দল বা জোটগুলোর মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। সংসদ সদস্যরা এই নির্বাচনের ভোটার হলেও সাধারণত দলগুলো তাদের নির্ধারিত আসনের বিপরীতে নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। ফলে প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষেই প্রার্থীরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষিত হন।
সংসদীয় আসনের বর্তমান চিত্র: গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশ করা হয়। গেজেট অনুযায়ী:
বিএনপি জোট: এককভাবে ২০৯টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। তাদের শরিক গণঅধিকার পরিষদ, বিজেপি ও গণসংহতি আন্দোলন পেয়েছে একটি করে আসন।
জামায়াতে ইসলামী জোট: ৬৮টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বসছে জামায়াত। তাদের জোটে রয়েছে এনসিপি (৬টি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (২টি) ও খেলাফত মজলিস (১টি)।
অন্যান্য: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়ী হয়েছেন।
সম্ভাব্য আসন বণ্টনের হিসাব:
নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য ও আনুপাতিক হার অনুযায়ী ৫০টি সংরক্ষিত আসনের সম্ভাব্য বণ্টন হতে পারে নিম্নরূপ:
১. বিএনপি ও তার জোট: ৩৬টি আসন (বিএনপি এককভাবে ৩৫টি)।
২. জামায়াতে ইসলামী ও তার জোট: ১৩টি আসন (জামায়াত এককভাবে ১১টি)।
৩. স্বতন্ত্র: ১টি আসন।
পরবর্তী প্রক্রিয়া: নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহেই সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনের সার্বিক বিষয় কমিশনের সভায় উপস্থাপন করা হবে। এরপর দল ও জোটগুলোর অবস্থান জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হবে এবং ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ইসি চাইছে প্রথম অধিবেশনেই যেন সংরক্ষিত আসনের নির্বাচিত সদস্যরা অংশ নিতে পারেন।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments