Image description

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশে সংকট মেটাতে জরুরি ভিত্তিতে এক লাখ ২৫ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানি করবে সরকার। দুবাইভিত্তিক সৌদি রাজ পরিবারের মালিকানাধীন পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল করপের কাছ থেকে এ তেল কেনা হবে। মঙ্গলবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রে।

সূত্রমতে, প্রতি ব্যারেল (প্রিমিয়াম) ৩ ডলার হিসাব করে ১ লাখ টন ডিজেল ও ২৫ হাজার টন গ্যাসোলিন আমদানিতে সম্ভাব্য খরচ ধরা হয়েছে ১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৬ হাজার ৮৬০ ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় দুই হাজার ৪৬ কোটি ৭১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উত্থাপিত প্রস্তাবে বলা হয়, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে জরুরি জ্বালানি আমদানির প্রয়োজন। সে লক্ষ্যে দুবাই ভিত্তিক সৌদি রাজপরিবারের মালিকানাধীন পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল করপের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে এক লাখ টন ডিজেল এবং ২৫ হাজার টন গ্যাসোলিন (৯৫ আনলেডেড) ক্রয় করা হবে।

২০১৯ সাল থেকে বিপিসি আমদানি জ্বালানি তেলের ৫০ শতাংশ সরকার টু সরকার (জি-টু-জি) পদ্ধতিতে এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির মাধ্যমে কিনে থাকে। ২৮ ফেব্রয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়। মার্কিন-ইসরাইল যৌথ হামলার কারণে ইরান হরমুজ প্রণালিতে ১ মার্চ থেকে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। 

এ পরিস্থিতিতে তেল রপ্তানিকারক বিভিন্ন দেশ তাদের রপ্তানি সীমিত বা স্থগিত করার পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সঙ্গে কাতার ও ওমান থেকে এলএনজি রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষিতে ইউরোপীয় বাজারে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিকল্প হিসাবে তরল জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তাও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ৯ মার্চ সারা দেশে ডিজেলের প্রারম্ভিক মজুত ছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯২১ টন যা দিয়ে ১৩ দিনের চাহিদা পূরণ সম্ভব। এ পরিস্থিতিতে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানি লাইনআপ বা সরবরাহ অক্ষুণ্ন রাখার লক্ষ্যে জরুরিভিত্তিতে জ্বালানি তেল আমদানির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

জানা গেছে, ৬ মার্চ পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল করপের সঙ্গে যোগাযোগ হয় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এটি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল (জিসিসি) এবং ইউরোপে জ্বালানি তেল সরবরাহ করে আসছে। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ এর ধারা ৬৮(১) অনুসারে সরকার, রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে বা বিপর্যয়কর কোনো ঘটনা মোকাবিলার জন্য জনস্বার্থে, সরকার গঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশক্রমে, ধারা ৩২ এ বর্ণিত সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি বা অন্য কোনো ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করে ক্রয়কার্য সম্পন্ন করতে পারবে। পিপিএ ও পিপিআরের বিধান অনুসরণে পেট্রোগ্যাস ইন্টান্যাশনাল করপের কাছ থেকে ১ লাখ টন ডিজেল ও ২৫ হাজার টন গ্যাসোলিন (অকটেন) সরবরাহের প্রস্তাব আহ্বান করা হলে তারা ৯ মার্চ আনুষ্ঠানিক দর প্রস্তাব দাখিল করে। এর প্রস্তাবিত দর পণ্য লোডিংয়ের তারিখে প্রকাশিত প্ল্যাটস মূল্য (আরব গালফ) প্রতি ব্যারেল ৩ ডলার। এই দর প্রিমিয়াম ডিজেল ও গ্যাসোলিন উভয় পণ্যের জন্যই প্রযোজ্য।

প্রাপ্ত প্রস্তাব মূল্যায়নের জন্য বিপিসি একটি মূল্যায়ন কমিটি গঠন করে। এ কমিটি প্রস্তাবের কারিগরি গ্রহণযোগ্যতা পর্যালোচনা করে মূল্যায়ন প্রতিবেদন দাখিল করে। কমিটি পেট্রোগ্যাসের দাখিল করা দর পর্যালোচনা করে। বর্তমানে বিপিসি ৫০ পিপিএম সালফার মানমাত্রা সীমার মধ্যে ডিজেল আমদানি করে থাকে। ডিজেলের জন্য ওই মানমাত্রা বিএসটিআই নির্ধারিত।