Image description

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রিয়জনদের সঙ্গে উৎসব কাটাতে রাজধানী ছাড়ছে লাখো মানুষ। গত কয়েক দিনের মতো শেষ সময়েও কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ও বাস টার্মিনালগুলোতে ঘরমুখো যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে উত্তরবঙ্গের পথে ট্রেন দুর্ঘটনা ও চন্দ্রা মোড়ে যানবাহনের ধীরগতি ঈদযাত্রায় কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করেছে।

সান্তাহারে ট্রেন দুর্ঘটনা ও বিকল্প ব্যবস্থা: ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি বুধবার দুপুরে বগুড়ার সান্তাহারে পৌঁছালে এর নয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন এবং উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকাজ শেষ হতে ১২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ‘ট্রান্সশিপমেন্ট’ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, একতা, দ্রুতযান, সীমান্তসহ বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা দুর্ঘটনাকবলিত স্থানে ট্রেন পরিবর্তন করে গন্তব্যে পৌঁছাবেন।

রেলস্টেশনে উপচে পড়া ভিড়: বগুড়ায় দুর্ঘটনা ঘটলেও ঢাকার কমলাপুর স্টেশনে বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয় দেখা দেয়নি। নির্ধারিত সময়েই অধিকাংশ ট্রেন স্টেশন ছেড়ে যাচ্ছে। যাত্রীরা কোনো ধরনের ভোগান্তি এড়াতে সময়ের অনেক আগেই স্টেশনে এসে ভিড় করছেন। বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামান জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সময়ানুবর্তিতা রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের প্রবেশপথ চন্দ্রায় যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড় ও যত্রতত্র যাত্রী উঠানো-নামানোর কারণে প্রায় ৮ কিলোমিটার জুড়ে যানবাহনের ধীরগতি দেখা গেছে। এতে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীরা কিছুটা ভোগান্তিতে পড়েছেন। তবে এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে। ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও কোথাও বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়নি। হাইওয়ে পুলিশ জানায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটের যাত্রা অনেকটাই নির্বিঘ্ন রয়েছে।

বুধবার গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সড়ক, রেল ও নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, সার্বিকভাবে এবারের ঈদযাত্রা আনন্দদায়ক ও স্বস্তিদায়ক। বাস কাউন্টারগুলোতে নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে এবং বড় ধরনের কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

উদ্ধারকাজ শেষ হলে এবং সড়কের ধীরগতি স্বাভাবিক হলে ঈদযাত্রা আরও নির্বিঘ্ন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মানবকণ্ঠ/আরআই