Image description

সন্তানের শোকে যেন পাথর হয়ে গিয়েছিল বাবা-মা! টানা তিন দিন মৃত শাবকের মরদেহের পাশে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে পাহারা দিয়েছে এক জোড়া হাতি। বন্যপ্রাণীর এমন নিখাদ সন্তানপ্রেম ও শোকের দৃশ্য স্থানীয়দেরও আবেগাপ্লুত করেছে।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের মারাগ্য পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে হাতি দম্পতি গভীর জঙ্গলে ফিরে গেলে বন বিভাগের কর্মীরা মৃত বাচ্চা হাতিটির ময়নাতদন্ত করে মাটিচাপা দেন। এর আগে গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে স্থানীয়রা একটি মাছের প্রজেক্টে মৃত বাচ্চাটিকে ঘিরে দুটি পূর্ণবয়স্ক হাতিকে দাঁড়িয়ে পাহারা দিতে দেখেন।

স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে একটি হাতির পাল খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছিল। মানুষের তাড়া খেয়ে পালটি গহীন পাহাড়ে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করে। গত মঙ্গলবার হাতির পালটি ফিরে যাওয়ার সময় সোনাইছড়ির মারাগ্য পাড়ার পশ্চিম পাশে মংবেছা মেম্বারের গোদার পাড় এলাকার একটি মাছের প্রজেক্টে পড়ে যায় শাবকটি। তবে মা হাতি আশপাশে অবস্থান করায় ভয়ে কেউ সেটিকে উদ্ধার করতে এগিয়ে যেতে পারেননি।
 
স্থানীয়রা বন বিভাগের লোকজনকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে যান। কিন্তু মৃত বাচ্চা হাতিকে ঘিরে দুটি হাতিকে পাহারা দিতে দেখে কাছে যেতে না পেরে সেদিনের মতো তারা ফিরে যান। বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে গিয়েও একই অবস্থা দেখে ফিরে আসেন বনকর্মীরা। অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে হাতি দুটিকে সেখানে দেখতে না পেয়ে মৃত বাচ্চাটির ময়নাতদন্ত শেষ করে মাটিচাপা দেয়া হয়।
 
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা তানভীর হোসেন জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। কিন্তু দুটি হাতি পাহারায় থাকায় ফিরে আসতে বাধ্য হন। পরে কক্সবাজার দক্ষিণ বনাঞ্চলের কর্মকর্তাদের খবর দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার তারা গিয়ে ময়নাতদন্ত করে মরদেহ মাটিচাপা দেন।
 

দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে বনভূমি উজাড় করার ফলে হাতির স্বাভাবিক আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। খাদ্যের অভাবে হাতির পাল লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। যার ফলে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘাত বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।