দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে থাকা সক্রিয় ফল্ট লাইনগুলো থেকে সাত মাত্রার বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্প সৃষ্টির সক্ষমতা রয়েছে, যা জনপদের জন্য বড় আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় আইন থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ভবন তদারকিতে রাজউকের বিকল্প হিসেবে ‘তৃতীয় পক্ষ’ বা থার্ড পার্টি নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) পেশাজীবী সংগঠন ‘পেপার্স’ আয়োজিত ‘ভূমিকম্প: পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সেমিনারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশে ৭ বা তার কাছাকাছি মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার মতো ফল্ট লাইন বিদ্যমান। বিশেষ করে দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চল ভূমিকম্পের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। আতঙ্কিত না হয়ে মাটির ধরন বুঝে ভবন নির্মাণ ও যথাযথ নিয়ম মানলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব।’
বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক স্থপতি ড. খন্দকার সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘ভূমিকম্প মোকাবিলায় বিল্ডিং কোড আমাদের প্রধান রক্ষাকবচ। এটি বাস্তবায়নে সরকারের সরাসরি সম্পৃক্ততা জরুরি। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে এখন ভূমিকম্পের পূর্বাভাস বা সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে ধারণা নেওয়া সম্ভব, যা আধুনিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করা উচিত।’
বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারি ভবন নির্মাণে রাজউকের একক কর্তৃত্বের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘রাজউক নিজেই নকশার অনুমোদন দেয় আবার নিজেই তদারকি করে। এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে এবং মান নিশ্চিত করতে তদারকির দায়িত্ব তৃতীয় পক্ষকে দেওয়া প্রয়োজন। আমরা ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধারকাজে অনেক বিনিয়োগ করি, কিন্তু ভবন নির্মাণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিনিয়োগের হার অত্যন্ত নগণ্য।’
ইঞ্জিনিয়ার এবং স্থপতিদের যথোপযুক্ত প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভূমিকম্প সহনীয় ভবন নির্মাণের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই। নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির দাবিও জানান তারা।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments