Image description

পলিথিন ও বর্জ্য নদী বা খালে না ফেলার জন্য দেশবাসীর প্রতি কঠোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পরিবেশ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খননের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। 

শনিবার (২ মে) দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জলাবদ্ধতা নিরসনে আমাদের অবশ্যই খাল খননের ওপর জোর দিতে হবে। পলিথিন বা বর্জ্য যেন আমরা সরাসরি পানিতে না ফেলি, সেটি পরিবারের শিশুদেরও ছোটবেলা থেকে শেখাতে হবে। পলিথিন খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে দেয়।”

ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার লেভেল থেকে অতিরিক্ত পানি টেনে তোলার কারণে দেশ ধীরে ধীরে ভয়াবহ সংকটের দিকে যাচ্ছে। তাই ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আমরা খাল ও জলাশয় খননের কথা বলছি। সিটি করপোরেশনের বন্যাপ্রতিরোধী অবকাঠামো প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে অতি বৃষ্টিতেও সিলেটে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না।”

দেশবাসীকে সরকারের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে আমরা অনেক উদ্যোগের কথা বলেছিলাম। সরকারের বয়স খুব কম হলেও সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে এরই মধ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু হয়েছে।” তিনি আরও জানান, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ শেষ হবে এবং রেল যোগাযোগ উন্নত করতে একে ডাবল লেনে রূপান্তর করা হবে।

সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে শিলাবৃষ্টি ও অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার সব সময় কৃষকদের পাশে রয়েছে।

এর আগে সকালে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে আকাশপথে পূণ্যভূমি সিলেটে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে মোনাজাত করেন। পরে তিনি সুরমা নদীর তীরে চাঁদনী ঘাটে গিয়ে নদীর উভয় পাড়ে বন্যাপ্রতিরোধী অবকাঠামো প্রকল্পসহ বেশ কিছু মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। সুধী সমাবেশ শেষে তিনি সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে বাঁইশা নদী পুনঃখনন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর