স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৈরি হচ্ছে বিধিমালা, জামানত বাড়লেও থাকছে না পোস্টার ও ইভিএম
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দলীয় প্রতীক বাতিলের পর এখন নির্দলীয় বা স্বতন্ত্র প্রতীকে ভোটগ্রহণের জন্য নতুন বিধিমালা ও আচরণবিধি তৈরি করা হচ্ছে। যেখানে প্রার্থীর জামানত কয়েক গুণ বাড়ানো এবং প্রচারণায় পোস্টার ও ভোটগ্রহণে ইভিএম ব্যবহার বন্ধের মতো বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গত মঙ্গলবার জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস থেকে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি), পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচন শুরু হতে পারে। তবে এই নির্বাচন আয়োজনে ইসির প্রায় ১০ থেকে ১২ মাস সময়ের প্রয়োজন হবে।
বিধিমালার খসড়ায় যা থাকছে: ইসি সূত্র জানিয়েছে, নতুন বিধিমালায় নির্বাচনের সনাতন পদ্ধতি অর্থাৎ কাগজের ব্যালটে ফেরার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বাদ দেওয়া হতে পারে ইভিএম এবং অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিধান। এমনকি পরিবেশ রক্ষা ও খরচ কমাতে প্রচারণায় কাগজের পোস্টার ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটারের স্বাক্ষরের বিধানটিও তুলে দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।
বাড়ছে জামানতের পরিমাণ: নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে প্রার্থীর জামানত উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী:
ইউনিয়ন পরিষদ: চেয়ারম্যান পদের জামানত ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার এবং সদস্যদের ১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হতে পারে।
সিটি করপোরেশন: মেয়র প্রার্থীদের সর্বনিম্ন ১ লাখ ৫০ হাজার এবং কাউন্সিলরদের ১ লাখ টাকা জামানত হতে পারে।
পৌরসভা: মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর জামানত উপজেলা চেয়ারম্যানদের (১ লাখ ও ৭৫ হাজার) সমান করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নির্বাচনের সময়কাল: ইসি সচিবালয় জানিয়েছে, যেকোনো নির্বাচনের জন্য কমিশনের অন্তত ৪৫ দিনের প্রস্তুতি প্রয়োজন। যদিও সরকার থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি আসেনি, তবে কমিশন অভ্যন্তরীণ কাজ গুছিয়ে রাখছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং শেষ ধাপে হবে উপজেলা নির্বাচন।
আগামী ৭ জুন শুরু হতে যাওয়া জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইসি জানিয়েছে, ধর্মীয় উৎসব, পাবলিক পরীক্ষা এবং আবহাওয়া বিবেচনা করেই চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments