পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখী মানুষের ঢলে যমুনা সেতু ও এর দুই প্রান্তের মহাসড়কে তৈরি হয় বাড়তি চাপ। গত সাতদিনে সেতু দিয়ে পারাপার হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৮২ হাজার যানবাহন, টোল আদায় হয়েছে প্রায় ২২ কোটি টাকা। তবে এই রেকর্ড পারাপারের বিপরীতে ছিল যাত্রী ও চালকদের সঙ্গী হয়েছে দীর্ঘ অপেক্ষা, ধীরগতি ও যানজটের ভোগান্তি। অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে কয়েক দফায় টোল কার্যক্রমও বন্ধ রাখতে হয়।
যমুনা সেতু সাইট অফিস ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ থেকে ২৮ মে পর্যন্ত সাতদিনে সেতু দিয়ে মোট ২ লাখ ৮১ হাজার ৭৭৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে টোল আদায় হয়েছে ২১ কোটি ৭৪ লাখ ৯ হাজার ৭৫০ টাকা।
সবচেয়ে বেশি চাপ ছিল ২৬ মে। ওই দিন ২৪ ঘণ্টায় সেতু ব্যবহার করে ৫৬ হাজার ৩১৭টি যানবাহন, যা চলতি ঈদযাত্রায় সর্বোচ্চ। সেদিন টোল আদায় হয় ৩ কোটি ৮২ লাখ ৯২ হাজার ২৫০ টাকা। এর আগের দিন ২৫ মে পারাপার হয় ৫৩ হাজার ২৬৫টি যানবাহন; টোল আদায় হয় ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৩৯ হাজার ৯০০ টাকা।
সাতদিনের হিসাবে, ২২ মে পারাপার হয় ৩৪ হাজার ৯৬৬টি যানবাহন, ২৩ মে ৩২ হাজার ৬৪০, ২৪ মে ৩৯ হাজার ৯২৩, ২৭ মে ৪৫ হাজার ৯৪২ এবং ২৮ মে ১৮ হাজার ৭২১টি যানবাহন। শেষ দিনে চাপ কিছুটা কমলেও অস্বস্তি ছিল।
ঈদযাত্রার চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পূর্ব টোল প্লাজা পর্যন্ত কয়েক দিন যানবাহনের ধীরগতি ও যানজট দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক দফায় ৪০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার বেশি সময় টোল আদায় ও যানবাহন পারাপার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এর প্রভাব পড়ে উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী লেনেও। সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ, কড্ডা ও মুলিবাড়ী এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। অনেক পরিবহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধীরগতিতে চলে। তীব্র গরম, মাঝেমধ্যে বৃষ্টি এবং দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকায় দুর্ভোগ বাড়ে যাত্রী ও চালকদের।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হচ্ছে সেতুর ওপরে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, লেন পরিবর্তনের প্রতিযোগিতা, ওভারটেকের চেষ্টা ও অসতর্ক চলাচলের কারণে গত কয়েক দিনে প্রায় ৫০–৬০টি ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে।




Comments