Image description

রাজধানীর ধানমন্ডি ও ভোলায় দুই জানাজা শেষে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের শেষ বিদায় সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন ২০২৬) ভোলা সরকারি হাই স্কুল মাঠে প্রথম জানাজা শেষে বিকেলে সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় ভোলা সরকারি হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় ঢল নামে হাজারো মানুষের। প্রবীণ এই নেতার জানাজায় অংশ নিতে সকাল থেকেই মাঠ প্রাঙ্গণে সমবেত হন সাধারণ মানুষ। জানাজায় কেবল আওয়ামী লীগ নয়, বরং রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।

সাবেক এই মন্ত্রীর জানাজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শহরজুড়ে পুলিশ, র‍্যাব, কোস্টগার্ড ও ডিবি সদস্যদের সমন্বয়ে এক কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। 

জানাজা শুরুর ঠিক আগে যুবদলের একদল নেতাকর্মী আওয়ামী লীগবিরোধী স্লোগান দিলে সেখানে কিছুটা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে খবর পেয়ে ভোলার পুলিশ সুপার এবং জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাঁরা নেতাকর্মীদের শান্ত করে ধর্মীয় গাম্ভীর্য বজায় রাখার অনুরোধ জানান।

জানাজা শুরুর আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়াত এই জননেতাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। মাওলানা মুফতি মুজির উদ্দিনের ইমামতিতে জানাজা শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর নিজ গ্রাম কোড়ালিয়ায়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর মায়ের কবরের পাশে দাফন সম্পন্ন হয়।

আজীবন ‘মা পাগল’ হিসেবে পরিচিত তোফায়েল আহমেদ জীবদ্দশাতেই তাঁর দাফনের স্থানটি নির্দিষ্ট করে গিয়েছিলেন। তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী ঠিক মায়ের কবরের পাশেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। জানাজায় তাঁর পরিবারের পক্ষে জামাতা, শ্যালকসহ নিকটাত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের প্রয়াণে ভোলাজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে।