দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো পর্যটন সমৃদ্ধ জেলা কক্সবাজার সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে সপরিবারে তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মাঝে তৈরি হয়েছে নতুন স্বপ্ন ও আকাশচুম্বী প্রত্যাশা।
কক্সবাজারবাসী মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর জেলার উন্নয়ন ও পর্যটন সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মোচন করবে। জেলা বিএনপির সভাপতি ও কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার করে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে এই সফর থেকে।"
কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হবে। যার মধ্যে রয়েছে— কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা, জেলা সদর হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় রূপান্তর, কক্সবাজার-মহেশখালী সেতু নির্মাণ, পিএমখালীর পাতলী খালকে ‘শহীদ জিয়া স্মৃতি খাল’ নামকরণ এবং কক্সবাজার স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা।
এছাড়া জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. ইউসুফ বদরী সমুদ্র সৈকতকে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর, সোনাদিয়া দ্বীপে বিদেশি পর্যটকদের জন্য এক্সক্লুসিভ জোন এবং মহেশখালী-মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও জানিয়েছেন, লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা এবং ব্লু-ইকোনমি ভিত্তিক একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনা হবে।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার পৌঁছে সড়কপথে চকরিয়ার পিএমখালীতে পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। এরপর মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তিনি। এছাড়া পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে বিকেলে চকরিয়া বাস টার্মিনালে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন। সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরে সুধী সমাবেশে অংশ নিয়ে মেরিন ড্রাইভ সড়কের সৌন্দর্য অবলোকন করবেন তিনি। সফর শেষে আজ রাতেই তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি বাইরে থেকে আসা অতিরিক্ত ফোর্সসহ মোট ৩ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। শহর ও জনসভাস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরাসহ কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments