৯৯৪১ কোটি টাকার রেল বাজেট
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে কমবে ৮০ কিমি পথ ও আড়াই ঘণ্টা সময়
নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে রেলওয়েকে ঢেলে সাজাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ৯ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে রেলের নিজস্ব আয় থাকলেও বাজেটের কর-বহির্ভূত আয়ের অংশে কোনো পৃথক প্রাক্কলন দেখানো হয়নি। অন্যদিকে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে কর্ডলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ট্রেন যাত্রার সময় আড়াই ঘণ্টা কমে সাড়ে ৩ ঘণ্টায় নামবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
বাজেট নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রস্তাবিত ৯ হাজার ৯৪১ কোটি টাকার মধ্যে পরিচালন ব্যয়ের জন্য ৪ হাজার ৫০১ কোটি এবং উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য ৫ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, রেলের যাত্রীভাড়া ও মালামাল পরিবহন থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের রাজস্ব আয় হলেও বাজেটে কর-বহির্ভূত রাজস্ব অংশে তা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে মোট ব্যয় থেকে সম্ভাব্য আয় সমন্বয় করে ‘নিট ব্যয়ের’ হিসাব দেখানো হয়, যার ফলে রেলের প্রকৃত আয় বাজেটে প্রতিফলিত হচ্ছে না। অথচ এক দশক আগেও রেলের আয় পৃথকভাবে বাজেটে উল্লেখ করা হতো।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের সব জেলা ও প্রধান শহরকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার কাজ চলছে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের দূরত্ব কমাতে ঢাকা-কুমিল্লা অংশে কর্ডলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে। কুমিল্লা বাইপাস দিয়ে নতুন এই রুট চালু হলে রেলপথের দূরত্ব বর্তমানের ৩২০ কিলোমিটার থেকে কমে ২৪০ কিলোমিটারে নামবে। এর ফলে যাত্রীদের সময় সাশ্রয় হবে প্রায় আড়াই ঘণ্টা।
লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন নিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম বন্দর, বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে প্রস্তাবিত কুমিল্লা ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোর (আইসিডি) সঙ্গে রেলপথে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া পাহাড়তলী রেলওয়ে ওয়ার্কশপের সক্ষমতা বাড়িয়ে স্থানীয়ভাবে কোচ ও লোকোমোটিভ সংযোজন এবং চাকা ও সিগন্যালিং সরঞ্জাম উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রেলকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ইলেকট্রিক ট্রেন চালু এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনাও বাজেটে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments