Image description

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কয়েকজন সাবেক উপদেষ্টার চিকিৎসা ব্যয়ে সরকারি কোষাগার থেকে বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন এবং সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের চিকিৎসা ব্যয়ের পরিমাণ নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে।

তথ্য অনুযায়ী, সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন নিজের চিকিৎসার জন্য সরকারি কোষাগার থেকে ৮১ লাখ ৯১ হাজার টাকা নিয়েছেন। অন্যদিকে সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ তার স্ত্রী পারভীন আহমেদের চিকিৎসা ব্যয় বাবদ পেয়েছেন ৭৯ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।

বর্তমান বিধি অনুযায়ী, মন্ত্রী এবং তাদের স্বামী বা স্ত্রী সরকারি খরচে চিকিৎসা সুবিধা পাওয়ার অধিকারী। তবে মাত্র ১৮ মাসের দায়িত্বকালে উপদেষ্টাদের চিকিৎসা বাবদ এত বড় অঙ্কের অর্থ গ্রহণ নৈতিকভাবে কতটা যৌক্তিক—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা।

এ বিষয়ে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের আগেই তার স্ত্রী ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে সিঙ্গাপুরে তার চিকিৎসা হয়েছে সরকারি বিধি অনুসারে। তিনি দাবি করেন, নিজের যাতায়াত ও আবাসনের ব্যয় নিজেই বহন করেছেন। সেসব ব্যয় দাবি করলে মোট খরচ আরও অনেক বেশি হতো। তার ভাষ্য, প্রচলিত আইন অনুযায়ীই সব অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে এবং এতে অনৈতিক কিছু নেই।

গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত সম্পদ বিবরণী অনুযায়ী, ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সম্পদের পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। তার স্ত্রী পারভীন আহমেদের সম্পদের পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, পাশাপাশি তার দায় ছিল ৩ কোটি ১২ লাখ টাকা।

অন্যদিকে গণসমালোচনার পর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আ ফ ম খালিদ হোসেন জানান, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের মেডিকেল বোর্ড তার জটিল ‘ক্যাথেটার অ্যাবলেশন’ অস্ত্রোপচারের সুপারিশ করেছিল। তবে দেশে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি না থাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় চিকিৎসায় প্রায় ১৭ লাখ টাকা এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে অস্ত্রোপচারে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়, যা সরকার বহন করে। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড় দেওয়ায় মোট চিকিৎসা ব্যয় কিছুটা কমেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রকাশিত সম্পদ বিবরণী অনুযায়ী, আ ফ ম খালিদ হোসেনের সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৪ লাখ ১১ হাজার টাকা।

এদিকে অন্যান্য সাবেক উপদেষ্টাদের চিকিৎসা ব্যয়ের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান চিকিৎসা বাবদ ৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, সাবেক ভূমি উপদেষ্টা হাসান আরিফ ২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা, সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা ড. এম আমিনুল ইসলাম ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং সাবেক খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়েছেন।

এ ছাড়া সাবেক পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ চিকিৎসা ব্যয় বাবদ ৬৭ হাজার টাকা, সাবেক শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ৩১ হাজার টাকা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান ২১ হাজার টাকা এবং প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা শেখ মইনউদ্দিন ৪ হাজার টাকা নিয়েছেন।