Image description

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজধানীর গুলশানের বাসভবনকে ‘বিশেষ শ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা’ বা কেপিআই (Key Point Installation) হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। এই ঘোষণার ফলে বাসভবনটি এখন থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টনী ও বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় এলো। সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পর গত শুক্রবার (৩ জুলাই) সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৭ জুন কেপিআই-সংক্রান্ত কমিটির (কেপিআইডিসি) সভায় গুলশানের এই বাসভবনটিকে বিশেষ শ্রেণির কেপিআই হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে এই বাসভবন থেকেই তাঁর রাষ্ট্রীয় ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা দাপ্তরিক কাজের জন্য প্রস্তুত থাকলেও তিনি স্থায়ীভাবে গুলশানের এই বাসভবনেই বসবাস করছেন।

গুলশানের প্রায় দেড় বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই বাড়িটি ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তাঁর স্ত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। গত বছরের ৫ জুন অন্তর্বর্তী সরকার বাড়িটির নামজারির কাগজ বেগম খালেদা জিয়ার হাতে হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে বাড়িটি সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হয়। গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর তারেক রহমান এই বাড়িতে ওঠেন এবং ১২ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে এখান থেকেই রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশেষ শ্রেণির কেপিআই ঘোষণার ফলে এই বাসভবনের অভ্যন্তরীণ ও বহিঃনিরাপত্তায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নিরাপত্তা তদারকিতে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সমন্বয়ে একটি পৃথক কমিটি গঠন করা হবে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবেন প্রেসিডেন্ট গার্ডস রেজিমেন্টের (পিজিআর) সদস্যরা। তাঁদের সহযোগিতায় থাকবে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ বাহিনী।

নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুযায়ী, বাসভবনের সীমানাপ্রাচীর হবে ১২ ফুট উঁচু, যার ওপর আরও ৩ ফুট ‘ওয়াই’ আকৃতির কাঁটাতারের বেড়া থাকবে। এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে স্থাপনার ২৫ মিটারের মধ্যে নতুন কোনো ভবন নির্মাণ করা যাবে না। ১৫০ থেকে ৩০০ মিটারের মধ্যে কোনো উঁচু ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আশপাশের উঁচু ভবন থেকে নজরদারি বা ছবি তোলার ক্ষেত্রেও থাকবে কঠোর নিষেধাজ্ঞা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নথি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের সর্বোচ্চ সুরক্ষার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর