Image description

টানা ভারী বর্ষণে রাঙামাটিতে বন্যা ও পাহাড় ধসের পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক পাহাড় ধসের ঘটনাও ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জেলা প্রশাসন জানায়, পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।

নিহতরা হলেন বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের ব্যবসায়ী মো. বদি মিয়া এবং রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের দলমনি চাকমা। তারা দুজনই গত মঙ্গলবার পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে নিখোঁজ হন। বৃহস্পতিবার তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

দুপুর থেকে আবারও ভারী বৃষ্টি শুরু হওয়ায় জেলার বিভিন্ন স্থানে নতুন করে পাহাড় ধস হয়েছে। এতে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বাঘাইছড়ি, বরকল ও বিলাইছড়িতে বন্যা পরিস্থিতির সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে। বাঘাইছড়ি-মারিশ্যা-দীঘিনালা সড়কের প্রায় তিন কিলোমিটার অংশ ধসে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ও টিলা ধসে সড়ক বন্ধ হয়ে গেলেও এলজিইডি, ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয়দের সহায়তায় সেগুলো অপসারণের কাজ চলছে।

এদিকে রাঙামাটি সদর, কাপ্তাইসহ দুর্গত এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

অন্যদিকে, বৃষ্টির কারণে সাজেকে আটকে পড়া ৫৬১ পর্যটকের মধ্যে বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনীর সহায়তায় ১৫০ জন এলাকা ছেড়ে যেতে পেরেছেন। বাকি পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।