Image description

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার কোনোভাবেই কোনো চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না। আমরা সরকারি ও বিরোধী দল কোনো কোনো বিষয়ে দ্বিমত করলেও অনেক বিষয়ে একমত হয়েছি। উগ্রবাদ ও চরমপন্থাকে প্রশ্রয় না দেওয়ার প্রশ্নে বিরোধী দলের সম্পূর্ণ সহযোগিতা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। 

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের (বাজেট অধিবেশন) সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদের রীতি অনুযায়ী বিরোধী দলের সঙ্গে আমাদের মধ্যে মতভিন্নতা থাকবে। তবে অবশ্যই শত্রুতা নয়। প্রতিহিংসা-প্রতিশোধের পরিবর্তে থাকবে ন্যায়পরায়ণতা। বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে একমত হয়ে বলব- এই বাংলাদেশ আর যাতে কখনো কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদ স্বৈরাচার মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। আর যাতে এই প্রিয় মাতৃভূমি তাঁবেদার তাঁবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হতে না পারে- এই প্রশ্নে বিরোধী দল এবং সরকারি দলের মধ্যে রয়েছে জাতীয় ঐক্য। যেকোনো মূল্যে এই জাতীয় ঐক্য অটুট এবং বজায় থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

বক্তব্যের শুরুর দিকে সংসদ নেতা মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের সিপাহী বিপ্লব, ২০১৩ শাপলা চত্বরে গণহত্যা, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারী আন্দোলন, ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহ, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ফ্যাসিবাদ সরকারের সময়ে শহীদ ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি এবং জুলাই আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ করেন। 

বাজেট অধিবেশনের সমাপনীকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বাজেট নিয়ে যারা চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন তারাও বলেছেন এই বাজেটটি জনবান্ধব। এই বাজেটের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে আমি সরকারি প্রশাসনসহ সবার সহযোগিতা কামনা করি। তিনি বলেন, জনগণের কাঙ্ক্ষিত এই সংসদ প্রত্যেক সংসদ সদস্যের প্রচেষ্টায় জনগণের সংসদ হয়ে উঠেছে। আজও দেখেছি বিল উপস্থাপনকে কেন্দ্র করে সংসদের উভয়পাশ প্রাণবন্ত আলোচনা করেছে। আলোচনা করে যে যার চিন্তা উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য্য। সংসদে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সবাইকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। 

দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা সরকারের অগ্রাধিকার উল্লেখ করে সংসদ নেতা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পেশাদার বাহিনী হিসেবে আমরা গড়ে তুলতে চাই। দুর্নীতির মাধ্যমে স্বৈরাচারের সময়ে প্রতি বছর এদেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার করে দেওয়া হয়েছে। সব সমস্যার অন্যতম কারণ হচ্ছে এই দুর্নীতি। যেকোনোভাবে হোক সেই দুর্নীতিতে হাত বেঁধে হোক আর টুটি চেপে ধরে হোক- নিয়ন্ত্রণ করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। 

বর্তমান সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে জনগণের জীবন এবং সম্পদ সুরক্ষা সরকারের পবিত্র আমানত বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই যেখানে রাষ্ট্র এবং সরকার হবে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক। অর্থনীতি হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক। নাগরিকের জীবন হবে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং সম্ভাবনাময়।