রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করায় দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও বিএনপির নীতিনির্ধারকরা এমন একজন গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দেখতে চান, যিনি আগামী জাতীয় নির্বাচনকালেও দায়িত্বে থাকবেন।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্পিকার সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। আগামী সেপ্টেম্বরে সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে এ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দলীয় সূত্র বলছে, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির চার জ্যেষ্ঠ নেতার নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রয়েছে। তারা হলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি অতীতে সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন এবং বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ মনে করছে, অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে তিনি রাষ্ট্রপতি পদের অন্যতম শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী। তবে এ দায়িত্ব নিতে তিনি আগ্রহী কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক। ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি এবং পরে দলের প্রথম ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন এবং দেশে-বিদেশে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ড. আব্দুল মঈন খানও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক। পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক থেকে রাজনীতিতে আসা এই প্রবীণ নেতা দল ও রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন ভদ্র ও সজ্জন ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। বয়সজনিত বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগলেও তাঁর নাম আলোচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানও সম্ভাব্যদের তালিকায় রয়েছেন। পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ভাবমূর্তির জন্য পরিচিত এই নেতা অন্য তিনজনের মতো বর্তমানে সংসদ সদস্য নন।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি অবসরে যাওয়া একজন প্রধান বিচারপতি এবং বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন জ্যেষ্ঠ আমলার নামও বিভিন্ন মহলে আলোচনায় রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কার্যত সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। তাই প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের মতামতই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরীর মতে, রাষ্ট্রপতি পদে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, কারণ তারা দীর্ঘদিন দল ও রাষ্ট্রের জন্য কাজ করেছেন এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখেন।
তিনি আরও বলেন, সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান যাকে সমর্থন করবেন, তাঁরই রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তবে বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোয় রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম।
মানবকণ্ঠ/এসএস




Comments