রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। বাসাবাড়িতে দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্যাসের অভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সিএনজিচালিত পরিবহন ব্যবস্থা। অধিকাংশ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে সরবরাহ কমে যাওয়ায় কোথাও কোথাও স্টেশন বন্ধ রাখতে হচ্ছে, আর খোলা স্টেশনগুলোতে দেখা দিয়েছে দীর্ঘ যানজট ও অপেক্ষার লাইন।
রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর হাজারীবাগ, লালবাগ, ওয়ারী, পুরান ঢাকা, মিরপুর, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা ও সবুজবাগসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাসিন্দারা জানান, গ্যাসের অভাবে সকালে সন্তানদের টিফিন কিংবা অফিসগামী সদস্যদের জন্য খাবার প্রস্তুত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে হোটেলের খাবারের ওপর নির্ভর করছে, আবার কেউ কেউ বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছেন। এতে সংসারের ব্যয়ও বেড়েছে।
লালবাগের বাসিন্দা আরিফুর রহমান রনি বলেন, তিন-চার দশকের বসবাসে এত ভয়াবহ গ্যাস সংকট তিনি কখনো দেখেননি।
গ্যাস সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে সিএনজিচালিত পরিবহনে। ডেমরা, উত্তরা, মিরপুর ও সবুজবাগের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা। ফলে অনেক চালক বাধ্য হয়ে যাত্রী ভাড়া বাড়িয়েছেন। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
উত্তরার একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার জানান, গ্যাসের চাপ না থাকায় পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ফলে স্টেশন চালু রেখেও কার্যত বিক্রি বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
মিরপুরের একটি ফিলিং স্টেশনের কর্মী নাজমুল জানান, পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় একটি কমপ্রেসার দিয়েই সীমিত পরিসরে সরবরাহ দিতে হচ্ছে। এতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে।
যাত্রাবাড়ী ও পুরান ঢাকার অনেক এলাকায় দিনের বেলায় গ্যাস না থাকায় অনেকে কাঠ কিংবা মাটির চুলায় রান্না করছেন। কেউ আবার বাধ্য হয়ে হিটার ব্যবহার করছেন, যা বিদ্যুৎ ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এদিকে সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একাধিক স্টেশন কর্তৃপক্ষের দাবি, তিতাস গ্যাস থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় তারা গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি দিতে পারছেন না।
গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় রাজধানীর জনজীবন, পরিবহন ব্যবস্থা এবং নিত্যদিনের জীবনযাত্রা ক্রমেই আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।




Comments