পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে জাতীয় সংলাপ
পানি নিরাপত্তা, কৃষি ও জলবায়ু সহনশীলতায় গুরুত্বারোপ
দেশের পানি নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা মোকাবিলায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক জাতীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ ও প্রকৌশলীরা। দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা ও সমন্বিত নীতি প্রণয়নের জোর দাবি জানান তাঁরা।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল ৩টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে 'ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশন' (আইজিসিএফ) আয়োজিত “পদ্মা ব্যারাজ: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ” শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব মত উঠে আসে।
গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, "বাংলাদেশের মূল সংকট হলো 'হয় অতিরিক্ত পানি, না হয় পানির চরম হাহাকার'। ১৯৭৭ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির পর বহু পরিকল্পনা হলেও তা বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ছিল। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যারাজের নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শেষ হলে জিডিপিতে অতিরিক্ত ০.৫ থেকে ১ শতাংশ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি যোগ হবে।"
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক) ড. সাইমুম পারভেজ জানান, "আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম মেগা প্রজেক্ট ছিল এই পদ্মা ব্যারাজ। 'সবার আগে বাংলাদেশ' নীতি অনুসরণে দ্রুততম সময়ে এর কাজ এগোবে। জাতীয় স্বার্থ ও পানি সংকট নিরসনে অন্য কোনো দেশের নজরদারি বা হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।"
আঞ্চলিক ভূরাজনীতি ও অর্থায়নের দিক তুলে ধরে এফএসডিএস-এর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর বলেন, "উজানে চীনের মেগা প্রকল্প ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র ভবিষ্যতে আঞ্চলিক পানি নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নিজস্ব অর্থায়নে গৃহীত ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার এই প্রকল্পে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।"
আইজিসিএফের চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান শাওন তাঁর বক্তব্যে জানান, গত ১৩ মে একনেক সভায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারাজের প্রথম ধাপ অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটি কেবল অবকাঠামো নয়, বরং সুন্দরবন, জীববৈচিত্র্য, খাদ্য নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক কূটনীতির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় গোলটেবিল সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. নুরুল ইসলাম, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হান্নান চৌধুরী, অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ বিন আলী এবং বিশিষ্ট সম্পাদক ও প্রকৌশলীবৃন্দ।
আলোচনা শেষে বক্তারা দেশের চারটি বিভাগের ১৯টি জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ, নদী ও শাখা নদীগুলোর প্রবাহ পুনরুদ্ধার এবং বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
মানবকণ্ঠ/এমআর




Comments