Image description

সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে ‘জুলাই ৩৬ গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে দর্শনার্থীদের প্রবেশ শুরু হয়। প্রথম দিনেই টিকিট সংগ্রহে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। শিশু, শিক্ষার্থী, তরুণ ও প্রবীণসহ নানা বয়সী মানুষ জাদুঘরটি ঘুরে দেখেন।

জাদুঘরে প্রবেশের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই টিকিট সংগ্রহ করা যাবে। অনলাইনে টিকিট কাটলে নির্ধারিত সময় (স্লট) অনুযায়ী প্রবেশ করতে হবে। কোনো দিনের সব স্লট পূর্ণ হয়ে গেলে পরবর্তী দিনের খালি স্লট বেছে নিতে হবে।

জাদুঘরে প্রবেশ করতেই দেখা যায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে নির্মিত প্রতীকী কবরস্থান। পাশাপাশি রয়েছে আন্দোলনের বিভিন্ন স্মৃতি ও বীরত্বগাঁথা তুলে ধরা ভাস্কর্য।

এছাড়া প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যবহৃত কক্ষ, চেয়ার-টেবিল, লাইব্রেরি ও বিভিন্ন ব্যক্তিগত সামগ্রী। একটি বিশেষ ফোনের মাধ্যমে তাঁর বিভিন্ন বক্তব্য ও কথোপকথনও শোনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জাদুঘরের একটি বড় অংশে সংরক্ষণ করা হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের ব্যবহৃত জামাকাপড়, জুতা, কলম এবং তাঁদের পেশাগত জীবনের বিভিন্ন সামগ্রী। পাশাপাশি ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত গোপন নির্যাতনকেন্দ্রের বিভিন্ন তথ্য ও চিত্র ডিজিটালভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এখানে আরও স্থান পেয়েছে গত দেড় দশকের বিভিন্ন আলোচিত ঘটনা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দলিল, গুম ও নির্যাতনের তথ্যচিত্র, বিডিআর বিদ্রোহে সেনা কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক আলোকচিত্র ও নথি। শহীদ আহনাফের মায়ের উদ্দেশে লেখা একটি চিঠিও প্রদর্শন করা হচ্ছে।

জাদুঘরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতীকী কবর নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ভাস্কর্যে আন্দোলনের স্মরণীয় মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রিকশাচালকের সালাম জানানো এবং শহীদ মুগ্ধের পানি বিতরণের দৃশ্য দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে।

এর আগে বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের প্রথম দিনটি শুধুমাত্র জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য নির্ধারিত ছিল।

সরকার জানিয়েছে, দর্শনার্থীদের সুশৃঙ্খল প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখতে সময়ভিত্তিক অনলাইন বুকিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।