Image description

বন্ড সুবিধায় আনীত শুল্কমুক্ত মদ অননুমোদিত গুদামে মজুত রাখা ও খোলাবাজারে চড়া দামে বিক্রির গুরুতর অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের মালিকানাধীন 'টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড'-এর চারটি শুল্কমুক্ত মদের গুদাম (ওয়্যারহাউস) সিলগালা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) গভীর রাতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) যৌথভাবে রাজধানীর দক্ষিণ গুলশানে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ছয় ঘণ্টাব্যাপী এক চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে।

আইন অনুযায়ী, বন্ডেড ওয়্যারহাউজ থেকে কেবল বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কূটনীতিক ও বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই নির্ধারিত শর্তে শুল্কমুক্ত মদ কিনতে পারেন। তবে টস বন্ড দীর্ঘদিন ধরে এসব পণ্য অবৈধভাবে খোলাবাজারে বিক্রি করে আসছিল বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। অভিযানের সময় এনবিআর অনুমোদিত দুটি ওয়্যারহাউসের পাশাপাশি আরও দুটি অননুমোদিত গোপন গুদামে বিপুল পরিমাণ শুল্কমুক্ত মদ বেআইনিভাবে মজুত রাখার হাতেনাতে প্রমাণ পান গোয়েন্দারা। ফলে অনিয়ম রোধ ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে চারটি গুদামই তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ও আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট ক্যানাডীয় কর্তৃপক্ষের সহায়তায় শেখ নুর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের আর্থিক সাম্রাজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেছে। গোয়েন্দা নথিতে শেখ নুর ইসলাম, তাঁর স্ত্রী শীলা ইসলাম এবং মেয়ে তাসনিম ইসলামের (সালমান মুক্তাদিরের স্ত্রী) বিদেশে নাগরিকত্ব থাকা, সেখানে অন্তত চারটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মালিকানা এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং চ্যানেলে বিপুল অঙ্কের সন্দেহজনক লেনদেনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।

২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত ১৬৩টি আর্থিক নথিপত্র বিশ্লেষণ করে ১৭টি সন্দেহজনক বড় অঙ্কের লেনদেন ও ট্রান্সফারের তথ্য মিলেছে। এছাড়া কেবল এক বছরেই প্রায় ৯৫ কোটি টাকা রেমিট্যান্স হিসেবে দেশে আনার বিষয়টি তদন্তকারীদের নজর কেড়েছে।

সম্প্রতি সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও পরবর্তীতে বিএফআইইউ কর্তৃক তাঁর ব্যাংক হিসাব তলবের পরই এই অভিযান জোরদার হলেও এনবিআরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন—এ ব্যবস্থার সাথে সালমান মুক্তাদিরের ব্যক্তিগত বিষয়ের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, কর ফাঁকি, বিদেশি নাগরিকত্ব গোপন রাখা এবং আন্তর্জাতিক মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক অনুসন্ধানের অংশ হিসেবেই এনবিআর, ভ্যাট ও আয়কর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যৌথভাবে এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে ঘটনার সার্বিক মূল্যায়নে বিস্তৃত তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

ডিআর