Image description

সারা দেশে ঘোষিত বিকল্প প্রার্থীদের বিষয়ে খুব শিগগির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বিএনপি। এর মধ্যে অন্তত তিনটি আসনে প্রার্থী বদলের পরিকল্পনা করছে দলটি। মূলত দ্বৈত নাগরিকত্ব ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন ঝুঁকিতে পড়ায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অন্য কোনো আসনে আইনি জটিলতা দেখা দিলে ২০ জানুয়ারির মধ্যে সেখানেও বিকল্প বা স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সামনে আনবে বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “বিএনপি বিকল্প চিন্তা থেকেই বিকল্প প্রার্থী দিয়েছে। যেসব আসনে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে শঙ্কা থেকেই এই ব্যবস্থা নিয়েছে দল।”

তিনি জানান, খুব শিগগির ওই সব আসনের বিষয়ে তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনী তপশিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র আপিল নিষ্পত্তি ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত।

জানা গেছে, এ সময়ের মধ্যে যেসব আসনে প্রার্থিতা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে বা হতে পারে– এমন সম্ভাবনা থেকে ওই সব আসনে দেওয়া বিকল্প প্রার্থীকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে দলটি। এর বাইরে আরও কয়েকটি আসনে প্রার্থীর বৈধতার বিরুদ্ধে আপিল নিষ্পত্তি হওয়া সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, সারাদেশে ছয়টি আসনে বিকল্প প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি আসনে বিকল্প প্রার্থীকেই চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে দল। বাকি পাঁচটির মধ্যে সিলেট-৬ আসনে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে দলের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে জেলা বিএনপির সদস্য ফয়সল আহমদ চৌধুরীকে। সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিকল্প প্রার্থী করা হয়েছে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুলকে। সুনামগঞ্জ-২ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেলকে। বগুড়া-২ আসনটি মিত্র দল নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে ছাড় দেওয়া হলেও সেখানে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে বিএনপি নেতা মীর শাহে আলমকে মনোনয়ন দিয়েছে দলটি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন কবির আহমেদ ভূঁইয়া। দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানান, এ আসনে ঘোষিত বিএনপির মুশফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বৈধতার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন একই আসনের গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী জহিরুল হক চৌধুরী। গত শুক্রবার আগারগাঁও প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর লিখিত আবেদন করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, ১৮ জানুয়ারি এই আপিলের নিষ্পত্তি হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে মুশফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের শঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, তিনি বয়োবৃদ্ধ ও হাঁটাচলায় সামর্থ্যহীন হওয়ায় দলের শীর্ষ নেতারাও এ আসনে বিকল্প প্রার্থীকে চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। 

একইভাবে কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল গফুর ভূঁইয়ার প্রার্থিতা বৈধতা ঘোষণার বিরুদ্ধে আপিল করেছেন একই এলাকার কাজী নুরে আলম সিদ্দিকী। তিনি আবেদনে বলেন, গফুর ভুঁইয়া তাঁর হলফনামায় মামলা-সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন এবং নিজের দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টিও এড়িয়ে গেছেন। এ কারণে তাঁর মনোনয়ন বাতিল হওয়ার আবেদন করেন নুরে আলম। 

এ ছাড়া সুনামগঞ্জ-২ আসনেও বিকল্প প্রার্থীকে চূড়ান্ত করার চিন্তা বিএনপির। এ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেলকে। এই আসনে শুরুতে সাবেক সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরীকে বিএনপি মনোনয়ন দেয়। জনপ্রিয় এই নেতা বয়সের ভারে হাঁটাচলাও করতে পারেন না। দীর্ঘ সময় ধরে প্যারালাইসিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। মূলত তার অসুস্থতার কারণেই এ আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সেখানে দলের বিকল্প প্রার্থী তাহির চৌধুরীর মনোনয়ন চূড়ান্ত করার বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতারা একমত হয়েছেন। 

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা বিএনপির নেতা সারোয়ার আলম লিটন জানান, নাছির চৌধুরী খুব যোগ্য ব্যক্তি। কিন্তু তার বয়স এবং অসুস্থতার কারণে জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার মতো অবস্থায় তিনি নেই। দলকে জেতাতে হলে তরুণ, জনপ্রিয় এবং কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে বিকল্প প্রার্থী তাহির চৌধুরী এখন সবচেয়ে যোগ্য। 

এর বাইরে সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিকল্প প্রার্থী করা হয়েছে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুলকে। তবে বিতর্কিত ও আওয়ামী-ঘনিষ্ঠ কামরুলকে কোনোভাবেই মানতে পারছেন না নেতাকর্মীরা। তারা চূড়ান্ত ঘোষিত প্রার্থী আনিসুল হককে নিয়ে মাঠে রয়েছেন।

বগুড়া-২ আসনটি মিত্র দল নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে ছাড় দেওয়া হলেও সেখানে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে বিএনপি নেতা মীর শাহে আলমকে মনোনয়ন দিয়েছে দলটি। মান্নার মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় শাহে আলমকে দলীয় প্রতীক দেওয়া হবে না বলে দলের একটি সূত্র জানিয়েছে।

যশোর-৪ আসনে বিকল্প প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজী। এ আসনে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইকালে ঋণখেলাপির দায়ে পূর্বনির্ধারিত প্রার্থী টি এস আইয়ুবের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণার পর মতিয়ার রহমান ফারাজীকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।