বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে পরিবর্তনের আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে এবং এই আন্দোলনকে তিলে তিলে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বর্তমান সরকার ও সংসদ ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের’ ফসল; তাই জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে কেউ পার পাবে না।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট (আইইডিবি) মিলনায়তনে ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১১ দলীয় ঐক্য এই সেমিনারের আয়োজন করে।
ডা. শফিকুর রহমান একটি রূপক গল্পের মাধ্যমে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করেন। তিনি দড়ি টানা পাখার উদাহরণ দিয়ে বলেন, “বিচারক রায় দিচ্ছেন কিন্তু দড়ি টানার সমস্যার কারণে কথা পাল্টে যাচ্ছে। প্রশ্ন জাগে, বর্তমানে পার্লামেন্টে যাদের নাড়া চাড়া দেখেন, তাদের দড়িটা পেছন থেকে কে টানে? জাতি সব বোঝে।” তিনি আরও বলেন, সরকার গণভোট নিয়ে দ্বৈত নীতি অবলম্বন করছে—কখনো একে হালাল বলছে, কখনো হারাম।
গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জুলাই আছে বলেই আমরা আছি, সরকার আছে, বিরোধী দলও আছে। জুলাই না থাকলে কিছুই থাকবে না। এই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে প্রয়োজনে আবারও রক্ত দেব।” তিনি উল্লেখ করেন যে, জুলাই আন্দোলনে প্রায় ১৪০০ শহীদের মধ্যে তিনি ১২০০ জনের বাড়িতে গিয়েছেন এবং দেখেছেন তাদের ৬২ শতাংশই ছিল সাধারণ শ্রমিক। তারা শুধু কোটা সংস্কারের জন্য নয়, বরং ফ্যাসিবাদের পতন ও রাষ্ট্র পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রাস্তায় নেমেছিল।
জামায়াত আমির বলেন, তারা সংসদে কোনো বাড়তি সুযোগ-সুবিধার জন্য যাননি, বরং জনগণের অধিকারের কথা বলতে গিয়েছেন। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমরা সংসদে ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া দেখতে পাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য করে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হচ্ছে। আপনাদের বলি, জিব্বা সংযত করুন। জুলাই উত্তর প্রজন্মের এই দেশ কারো রক্তচক্ষু পরোয়া করে না।”
তিনি দেশবাসীকে আন্দোলনের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই লড়াই কোনো সুবিধাবাদী আন্দোলন নয়, বরং ৭০ ভাগ মানুষের গণরায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপি চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান প্রমুখ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments