Image description

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের নিম্নমানের কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় মির্জা মো. তরিকুল ইসলাম নামে এক উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে বাঁশ দিয়ে ধাওয়া করেছেন ঠিকাদারের গাড়িচালক। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার শিবপুর ওস্তাদ আফতাব উদ্দিন খাঁ মাজার সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রকৌশলীকে বাঁশ হাতে তাড়া করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, উপজেলার মেরকুটা বাজার থেকে শিবপুর বাজার পর্যন্ত ১৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক উন্নয়নের কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করছে। এর প্রেক্ষিতে সোমবার দুপুরে কাজ পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়ম দেখতে পেয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ায় ঠিকাদার লোকমান হোসেনের সাথে প্রকৌশলী তরিকুলের কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে লোকমান হোসেনের ব্যক্তিগত গাড়িচালক বিল্লাল একটি বাঁশ নিয়ে তরিকুলকে মারতে যান এবং তাকে ধাওয়া করেন। প্রাণ বাঁচাতে প্রকৌশলী তরিকুলকে দৌড়ে পালাতে দেখা যায়, যা পাশেই থাকা এক ব্যক্তি ভিডিও করেন।

ভুক্তভোগী উপ-সহকারী প্রকৌশলী মির্জা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “জনস্বার্থে ও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিম্নমানের কাজ বন্ধ করতে বলায় ঠিকাদারের ড্রাইভার আমার ওপর বাঁশ নিয়ে হামলা করে এবং আমাকে তাড়া করে। আমি এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে ঠিকাদার ও তার চালকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছি।”

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার লোকমান হোসেন বলেন, “কাজের ২ শতাংশ ঘুষ দাবি করেছিলেন ওই প্রকৌশলী। এ নিয়ে তর্কাতর্কির সময় আমার ড্রাইভার উত্তেজিত হয়ে তাকে লাঠি দিয়ে ধাওয়া করে। পরে বিষয়টি ওনার সামনেই মীমাংসা করে দিয়েছি।”

উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফেরদৌস আহম্মেদ জানান, “অফিসিয়াল ডিউটি পালন করতে গিয়ে প্রকৌশলীর ওপর এমন হামলা নজিরবিহীন। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় অভিযোগ দিয়েছি।”

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, “উপ-সহকারী প্রকৌশলী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর