পীরগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পর এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলার কোষারানীগঞ্জ ইউনিয়নের রাঘবপুর গ্রাম থেকে ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত রাধারানী (১৯) রাঘবপুর গ্রামের মিঠুন চন্দ্র রায়ের স্ত্রী। তিনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, সোমবার সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। এরপর স্বামী মিঠুন চন্দ্র রায় কাজে চলে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘরের তীরের সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় রাধারানীর ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনাটি আত্মহত্যা বলা হলেও নিহতের পরিবারের দাবি এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নিহতের পিতা মহেন্দ্র রায় অভিযোগ করে বলেন, “মাত্র ৯ মাস আগে রাধারানীর সাথে মিঠুনের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে ৩ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। আমরা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করি। বাকি ৫০ হাজার টাকার জন্য বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়ের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাচ্ছিল মিঠুন। সে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় প্রায়ই রাধারানীকে মারধর করত।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত রোববারও মিঠুন হুমকি দিয়েছিল যে বাকি টাকা না পেলে ‘দুর্ঘটনা’ ঘটবে। মহেন্দ্র রায়ের দাবি, তার মেয়েকে হত্যা করে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাকিম জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি; অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments